গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ও টুঙ্গিপাড়া সংবাদদাতা
গোপালগঞ্জের ৫ উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তাই তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে গোপালগঞ্জ সদর, কোটালীপাড়া, টুঙ্গিপাড়া, কাশিয়ানী ও মুকসুদপুরে ২২ আওয়ামী লীগ নেতা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এ ৫ উপজেলায় বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করনেনি। ফলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ জেলা গোপালগঞ্জের ৫ উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ থাকছে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ লুত্ফার রহমান বাচ্চু, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মাহামুদ হোসেন দিপু ও আওয়ামী লীগ নেতা ক্ষিতিশ বিশ্বাস, টুঙ্গিপাড়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গাজী গোলাম মোস্তফা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. সোলায়মান বিশ্বাস, টুঙ্গিপাড়ার পাটাগাতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. বাবুল শেখ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী মাসুদুল হক, কোটালীপাড়ায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান হাওলাদার, সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিমল বিশ্বাস, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র জয়ধর, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য কমল চন্দ্র সেন, কাশিয়ানীতে উপজেলা চেয়ারম্যান জানে আলম বীরু, সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সুব্রত ঠাকুর হিল্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোক্তার হোসেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য ফারুক আহম্মেদ, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুন্নাহার মিনা জামান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কাজী নুরুল আমিন তুহিন, মুকসুদপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রবিউল আলম সিকদার, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মো. কাবির মিয়া, মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মুক্তু মুন্সি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য কাইমুজ্জামান রানা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
কাশিয়ানীর ভোটার কামাল হোসেন, গোপালগঞ্জের ভোটার রহমত শেখ, কোটালীপাড়ার ভোটার মিজানুর রহমান, টুঙ্গিপাড়ার ভোটার পিন্টু শেখ ও মুকসুদপুরে ভোটার কবির হোসেন বলেন, এখানে সবাই আওয়ামী লীগ করেন। প্রায় সব ভোটার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থক। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন না দিয়ে ভালো করেছে। এখানে আওয়ামী লীগের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ থাকবে। আমরা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারবো। এ নির্বাচনে প্রার্থীরা আমাদের মূল্যায়ন করবেন। এ ব্যবস্থা করায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের সকল সদস্যদের আমরা ধন্যবাদ জানাই।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বলেন, গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এ জেলার পাঁচ উপজেলায় আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী নেই। তাই গোপালগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এখন যে যার মতো করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে উপজেলাগুলোর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এতে ভোটাররা মূল্যায়িত হবেন। আমরা নেতা-কর্মীদের তাদের পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে বলেছি। আশাকরি, প্রধানমন্ত্রীর এ জেলায় শান্তিপূর্ণ ভোট হবে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে গোপালগঞ্জের পাঁচ উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
