বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিতে ছুটে আসছেন লাখো মুসল্লি। আজ শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বিশ্ব মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মহাসমাবেশ। এর আগে ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এ দুই পর্ব মিলিয়ে দেশের মোট ৩২ জেলার মুসল্লিরা এবারের ৫১তম বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেবেন। আগামী ২০১৭ সালের বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেবেন বাদ পড়া বাকি ৩২ জেলার মুসল্লিরা।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইজতেমা ময়দানে ভিড়, যানজটসহ নানা ভোগান্তির পর প্রচুর সংখ্যক মুসল্লি ময়দানে এসে নিজ নিজ জেলাওয়ারী খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন। তারা সঙ্গে করে রান্নার চুলা, গ্যাসের বোতল, জামা কাপড়, শীতবস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে এসেছেন। দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ব ইজতেমায় ঢাকাসহ ১৬টি জেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন। এর জন্য ইজতেমা ময়দানকে ২৯টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ১ নং থেকে ৭ নং খিত্তায় ঢাকা জেলার বাকি এলাকা, ৮ নং খিত্তায় ঝিনাইদহ, ৯ ও ১১ নং খিত্তায় জামালপুর, ১০ নং খিত্তায় ফরিদপুর, ১২ ও ১৩ নং খিত্তায় নেত্রকোনা, ১৪ ও ১৫ নং খিত্তায় নরসিংদী, ১৬ ও ১৮ নং খিত্তায় কুমিল্লা, ১৭ নং খিত্তায় কুড়িগ্রাম, ১৯ ও ২০ নং খিত্তায় রাজশাহী, ২১ নং খিত্তায় ফেনী, ২২ নং খিত্তায় ঠাকুরগাঁও, ২৩ নং খিত্তায় সুনামগঞ্জ, ২৪ ও ২৫ নং খিত্তায় বগুড়া, ২৬ ও ২৭ নং খিত্তায় খুলনা, ২৮ নং খিত্তায় চুয়াডাঙ্গা এবং ২৯ নং খিত্তায় পিরোজপুর জেলা।
এদিকে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও পানি, বিদ্যুত্ ও গ্যাস নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। টঙ্গী ডেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল হক জনান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসাবে চারটি জেনারেটর সব সময় প্রস্তুত রয়েছে।
স্থানীয় ওয়াসাসূত্রে জানা যায়, ইজতেমা ময়দানে ১৩টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। যা থেকে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি লিটার সুপেয় পানি মুসল্লিদের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। বিপুল সংখ্যক টয়লেট, গোসল ও ওজুখানা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ওয়াসা কর্তৃপক্ষও তাদের গাড়ির মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে পানি সরবরাহ করবে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ইজতেমা ময়দানের বিদেশি মেহমানখানায় ও ইজতেমা আয়োজকদের রান্না-বান্নার প্রয়োজনীয় স্থানে গ্যাস সংযোগের কাজ সম্পন্ন করেছে।
বিশ্ব ইজতেমায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বেও মুসল্লিদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে বিশ্ব ইজতেমা মাঠ সংলগ্ন শহীদ আহসান উল্যাহ মাষ্টার স্টেডিয়ামে পুলিশ সদস্যের ব্রিফিং শেষে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজিপি (ট্রেনিং) মো: মইনুর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছেন, বিশ্ব ইজতেমায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ সময় ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মাহফুজুল হক নূরুজ্জামান বলেন, এটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গিদের কোনো সময় প্রশ্রয় দেয়নি, দেবেও না। মানুষ নিরাপদে এখানে আসবে, নিরাপদে আবার ফিরে যাবে কোনো সমস্যা হবে না।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, পুলিশের প্রায় ৫ সহস্রাধিক সদস্য ইজতেমার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ ও র্যাবের কন্ট্রোল রুম থেকে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন ঘটতে না পারে সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।
এদিকে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বেও বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিসি) বিশেষ ট্রেন সার্ভিস ও বাস চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
