সাক্ষাৎকার

বাংলাদেশের প্রযুক্তি পণ্যের বাজারকে গুরুত্বের সাথে দেখছে ডেল: হারজিত্ সিং রেখি

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৬, ০১:১৩
ডেল সাউথ এশিয়া ডেভেলপিং মার্কেটস গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার হারজিত্ সিং রেখি। ২০০৬ সাল থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত আছেন তিনি। এ পর্যন্ত ডেলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডেল সলিউশন ফোরাম ২০১৬-তে অংশ নিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন তিনি। এ সময় ডেলের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিনিয়োগ, বাজারের অবস্থা এবং বাংলাদেশের বাজার নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন এক বিশেষ সাক্ষাত্কারে। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন শাহাদাত হোসেন
 
বছর দুয়েক আগে পাবলিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপ নেয় ডেল। ডেলের জন্য এই সিদ্ধান্ত কতটা সুফল বয়ে এনেছে এবং ডেলের অগ্রগতিতে কী প্রভাব ফেলেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে হারজিত্ সিং বলেন, ‘বিভিন্ন দিক থেকেই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল। এর ফলে মূলত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগে জটিলতা কমেছে। এর পাশাপাশি তখন অনেক কিছুই করা সম্ভব হতো না যা এখন করা সম্ভব।’ তিনি আরও জানান, ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এখন অনেক কম সময়ের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া এখন ডেলের কর্মীরা অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে পারে। মূলত একটি পাবলিক কোম্পানি আর প্রাইভেট কোম্পানির মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরনে অনেক পার্থক্য রয়েছে।’
 
পাবলিক থেকে প্রাইভেট কোম্পানিতে রূপান্তরের পর ডেলের আয় কমে এসেছিল। এটা কি এই সিদ্ধান্তের কারণেই হয়েছিল কিনা, জানতে চাইলে হারজিত্ জানান, আসলে একটি প্রতিষ্ঠানের আয় অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে আছে বাজারের অবস্থা, প্রতিযোগিতা, অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় প্রভৃতি। এসবের উপর নির্ভর করে আয় বাড়তে পারে কিংবা কমতেও পারে। তবে ডেল সব সময় দীর্ঘস্থায়ী বাজারের কথা চিন্তা করেই সব ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে বলে জানান তিনি।
 
বাংলাদেশের বাজারের ডেলের নতুন পণ্য ও সেবা সম্পর্কে তিনি জানান, ডেল এখানকার বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে সার্ভার সল্যুশন, নেটওয়ার্কিং সল্যুশন থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের কম্পিউটিং সেবা দিয়ে থাকে। এ ছাড়া ডেল বাংলাদেশে এনেছে রাগেড ল্যাপটপ। এটি মূলত মিলিটারি গ্রেড ল্যাপটপ। বাংলাদেশের গ্রাহকদের কাছে থাকা ডেল পণ্যের সার্ভিসিংয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি আবারও সার্ভিস ক্যাম্প চালু করেছে বলে জানান হারজিত্। এখান থেকে ওয়ারেন্টিসহ কিংবা ওয়ারেন্টি ছাড়া, সব ধরনের ডেল পণ্য বিনামূল্যে সার্ভিসিং করে দেওয়া হচ্ছে।
 
ডেল সল্যুশন ফোরাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডেলের মতো একটি বৃহত্ প্রতিষ্ঠানের অনেক পণ্য রয়েছে। ফলে একজন গ্রাহকের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই জানা সম্ভব হয় না ডেল আসলে কী করছে। আর তাই এই ইভেন্টে এসে তারা যেমন বিভিন্ন পণ্য এবং সেবা সম্পর্কে জানতে পারছে, তেমনি এ সকল পণ্য এখানে হাতে নিয়ে ও ব্যবহার করেও দেখতে পারছে।’
 
বাংলাদেশে ডেলের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজারকে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখছে ডেল। আর তাই স্থানীয় বাজারে ডেল বিনিয়োগ করে চলেছে।’ বাংলাদেশে ডেলের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা সাধারণ ভোক্তা, সব ক্ষেত্রেই ডেলের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে যা ডেলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, জানান হারজিত্। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বর্তমান বছরটি হবে ডেলের জন্য বাংলাদেশে সেরা সময়।’ বাংলাদেশে ডেলের মার্কেট শেয়ার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ডেস্কটপ কম্পিউটারের ক্ষেত্রে ডেল শীর্ষে রয়েছে। তবে অন্যান্য প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে ডেলের অবস্থান প্রথম দুইয়ের মধ্যেই আছে। বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম বৃহত্ তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের বাজার।’ তিনি আরও জানান, এখানে প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহারকারীদের গড় বয়স ২৫-২৬ বছর এবং ক্ষেত্র বিশেষে এরও কম যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্ভাবনা। সম্প্রতি স্টোরেজ সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইএমসি অধিগ্রহণ করেছে ডেল। আর এই অধিগ্রহণকে খুবই গুরুত্বের সাথে দেখছেন ডেলের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘বাজারে যেসব শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড রয়েছে, ইএমসি তার মধ্যে একটি। আমি মনে করি ডেল এবং ইএমসি একত্রে কাজ করলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে গ্রাহকরাই। তবে এখন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সমপন্ন না হওয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত এখনই বলছি না।’
 
ডেল এবং ইএমসি উভয় প্রতিষ্ঠানেরই কিছু কমন পণ্য রয়েছে। একসাথে কাজ শুরু করলে উভয় প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্নভাবে এই পণ্যগুলো তৈরি করবে কিনা, জানতে চাইলে হারজিত্ বলেন, ‘আমার মতে এক্ষেত্রে আলাদাভাবে দুই প্রতিষ্ঠানেরই একই ধরনের পণ্য তৈরির করাটা অর্থবহ নয়। এর পরিবর্তে উভয় প্রতিষ্ঠান মিলে একটি পোর্টফোলিও রাখাই অধিক কার্যকর হবে।’
 
বর্তমানে স্মার্টফোন বাজারে সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং একইসাথে ট্যাবের বাজার সংকুচিত হচ্ছে। ডেলের স্মার্টফোন বাজারে প্রবেশের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে পরিবর্তন খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। কয়েক বছর পরপরই এখানে পরিবর্তন দেখা যায়। আর এরই অংশ হিসেবে এখন স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে এই পরিবর্তন দেখেই ডেল স্মার্টফোন তৈরির সিদ্ধান্ত নেবে না। মূলত পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে ডেল নির্ভর করে গ্রাহকের প্রয়োজনীয়তার উপর। একজন গ্রাহককে সমপূর্ণ সেবা দিতে যদি প্রয়োজন হয়, তখন ডেল অবশ্যই সেই পণ্যটি তৈরি করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে সকল প্রতিষ্ঠান আমাদের বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও সেবা ব্যবহার করছে, অনেক সময় দেখা যায় তারা নতুন কোনো পণ্যের জন্য আমাদের দ্বারস্থ হয়। এক্ষেত্রে অন্যান্য ব্র্যান্ড থাকলেও তারা নতুন করে অন্য কোন ব্র্যান্ডের দ্বারস্থ হতে চান না। আর এ ধরনের গ্রাহকদের জন্য আমরা অল্প পরিমাণেও হলেও এমন কিছু পণ্য তৈরি করে থাকি যা সচরাচর ডেল বাজারে আনে না। মূলত গ্রাহককে তার সমপূর্ণ সল্যুশন প্রদান করতেই ডেল এই কাজটি করে থাকে।’