তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের সাথে সাথে আরও একটি বিষয় সামনে চলে এসেছে। আর তা হলো সাইবার আক্রমণ এবং সাইবার নিরাপত্তা। দেশের সাইবার স্পেসের নিরাপত্তায় সরকার সমপ্রতি সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর পাশাপাশি ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের চারটি ধারা সংশোধনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনলাইন সংশ্লিষ্টরা অনেকদিন থেকেই এই আইনের ৫৭ ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আর তাই সরকারের এই উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৬ সালে এই আইন প্রণয়নের সময় দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ লাখ। তবে বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখে। ফলে এই আইনের সংশোধনের প্রয়োজন যেমন ছিল, তেমনি সাইবার স্পেসের সুরক্ষার জন্য আলাদা আইন তৈরিরও প্রয়োজন ছিল।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এ বিষয়ে জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৪ থেকে ৫৭ ধারা সংশোধন করা হবে। মূলত কোন নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই এই সংশোধনী আনা হবে বলে তিনি জানান। সাইবার আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি বিল ২০১৬ প্রণয়ন করছে বলেও এ সময় তিনি জানান।
২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭/১ ধারা অনুসারে, কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সমপ্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসত্য হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানী প্রদান করা হয়, তাহলে তার এই কার্য হবে একটি অপরাধ।
তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় অপরাধের যে ধরন বা সংজ্ঞা ছিল, নতুন আইনে তা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। আইসিটি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ধারা সম্পর্কে নতুন আইনে আরও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ২০০৬ সালের আইনের মতোই নতুন আইনেও থাকছে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান।
পলক আরও জানান, এই আইনের খসড়া নিয়ে তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের সাথেও কথা বলেছেন। আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এই বিলটি উত্থাপন করা হতে পারে। নতুন আইনের বিষয়ে জুনাইদ আহমেদ পলক ২০১৫ সালে জানিয়েছিলেন, শিশু-কিশোরদের সাইবার স্পেসে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টিও এই আইনে গুরুত্ব পাবে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যাপক প্রসার ঘটলেও ক্লোনিং, ফিশিং এর মাধ্যমে নানা প্রতারণা হচ্ছে। আর এই সকল বিষয় নতুন আইনের আওতায় আসবে।’
মূলত তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ প্রভূত সাফল্য লাভ করেছে। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা গ্রহীতার সংখ্যাও। অনলাইনে কেনাকাটা, বিল প্রদান, চিকিত্সাসেবাসহ অনেক সেবা মানুষ ঘরে বসেই পাচ্ছে। তবে এই পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে সাইবার আক্রমণ এবং সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে উঠে এসেছে। কারণ সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা থাকলে মানুষ ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা গ্রহণে যেমন আগ্রহ হারাবে, তেমনি অনলাইনে কেনাকাটা কিংবা অন্য যেকোনো লেনদেন সমপন্ন করার ক্ষেত্রেও আগ্রহী হবে না।
