জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষকদের টানা কর্মবিরতির কারণে বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ২০ টি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। যে কারণে ছাত্ররা দীর্ঘমেয়াদী সেশনজটের আশঙ্কা করছেন।
বিভিন্ন বিভাগ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনের কারণে স্থগিত করা হয়েছে, কলা ও মানবিক অনুষদের আওতাধীন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা, একই বিভাগের এমফিল ও পিএইচডির পরীক্ষা, বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ও দ্বিতীয় বর্ষের এবং এমফিল ও পিএইচডির পরীক্ষা, গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের গণিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা এবং পরিসংখ্যান বিভাগের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা।
অন্যদিকে বন্ধ রয়েছে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের আওতাধীন নগর ও অঞ্চলপরিকল্পনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রথমবর্ষের পরীক্ষা এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা। এছাড়া বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে বন্ধ রয়েছে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা। জীববিজ্ঞান অনুষদের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা, প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের পিএইচডি ও মাস্টার্সের পরীক্ষা এবং ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির দ্বিতীয় বর্ষ ও ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষাও স্থগিত রয়েছে। এসব পরীক্ষা গত ১১ জানুয়ারি শিক্ষকদের কর্মবিরতি শুরুর পর স্থগিত করা হয়।
শিক্ষকদের এ আন্দোলন জানুয়ারি মাস পর্য়ন্ত গড়ালে আরো ছয় বিভাগের পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরীক্ষাগুলো হল, লোক-প্রশাসন বিভাগের প্রথম বর্ষের ও অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা, ফার্মেসি বিভাগের পরীক্ষা, ইতিহাস বিভাগেরচ চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের এমফিলের এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষকদের আন্দোলনের বলি হচ্ছি আমরা শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকরা ক্লাশ বন্ধ না করে অন্য উপায়ে আন্দোলন করলে আমাদের অন্তত সেশন জটে পড়তে হত না।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি খবির উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বিষয়টি আমাদের মাথায়ও আছে। সরকার আমাদের দাবি মেনে নিলে আমারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিব। আমার চাই সরকার শিগরিরই একটা সমাধান করুক।’
