আত্মকর্মসংস্থানে অ্যাকুয়াপনিকস

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ২১:৫৬

অ্যাকুয়াপনিকস হলো অ্যাকুয়াকালচার (মাছ চাষ) ও হাইড্রোপনিকসের (মাটি ছাড়া উদ্ভিদ উত্পাদন) এক সমন্বিত পদ্ধতি। এতে মাছের বর্জ্য উদ্ভিদের জন্য একটি জৈব খাদ্যের উত্স হিসেবে কাজ করে এবং উদ্ভিদ প্রাকৃতিকভাবে মাছের জন্য পানি ফিল্টার করে। এ পদ্ধতি  স্বল্প ও বৃহত্ যে কোনো আকারেই করা সম্ভব। মাছ, ব্যাকটেরিয়া এবং গাছ রি-সারকেলুটরি পানি প্রবাহ পদ্ধতিতে কাজ করে এবং মাটি ছাড়া গাছ উত্পন্ন হয়। এছাড়া এ পদ্ধতিতে কোনো সার, কীটনাশক বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না বলে মানব স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। পানি কম লাগে—ফলে খরা ও লবণাক্ত অঞ্চলে খুবই উপযোগী। বাড়ির ছাদ, আঙিনা এমনকি বারান্দায়ও চাষ করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে যেহেতু মাটি ব্যবহার করা হয় না তাই মাটিবাহিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অধিক ঘনত্বে মাছ চাষসহ সারা বছর জুড়ে সবজি উত্পাদন সম্ভব।

অনেকগুলো  পদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক হচ্ছে ‘সহজ পানির প্রবাহ ও নিগর্মন’ পদ্ধতি। প্রায় সকল ধরনের মৌসুমি শাকসবজি এই পদ্ধতিতে উত্পাদন করা হয়, যেমন লেটুস, টমেটো, শিম, লাউ, ঢেঁড়শ, কলমি, শসা ইত্যাদি। আর মাছের ক্ষেত্রে সে সব মাছ অধিক ঘনত্ব ও চাপ সহ্য করতে পারে, রোগবালাই কম হয় এবং দ্রুত বৃদ্ধি পায় সে প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়, যেমন তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, কই, শিং, মাগুর ইত্যাদি। যেহেতু  জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আবাদি জমি কমছে, তাই অ্যাকুয়াপনিকস আমাদের জন্য খুবই উপকারী। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সহজেই আাাত্মর্মসংস্থান গড়ে তোলা সম্ভব। পাশাপাশি আমাদের পরিবেশ রক্ষাও সম্ভব হবে।

জোবায়ের মাসুম, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগ,

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়