বাংলাদেশের একজন নারী জীবনের ১২ বছর রান্নাঘরে কাটান। এ কারণে শারীরিক ও মানসিকসহ নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন তারা। রান্নাবান্নাসহ এরকম কাজে একজন নারীকে প্রতিদিন পুরুষের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি সময় দিতে হচ্ছে। আর এই সেবামূলক কাজের মূল্যায়ন, স্বীকৃতি ও বণ্টন না থাকায় নারীর সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন হচ্ছে না।
অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড সোশ্যাল ট্রান্সফরমেশন (সিজিএসটি) প্রজেক্টের ‘স্ট্রেন্থেনিং উইমেনস কালেকটিভস’ প্রকল্পের আওতায় লালমনিরহাট ও গাইবান্ধায় তৃণমূল নারী এবং পুরুষের বিভিন্ন কাজে সময়ের ব্যবহার নিয়ে গবেষণায় (দ্বিতীয় ধাপে) এমন তথ্য উঠে এসেছে।
রবিবার ঢাকার স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে তিন ধাপে হওয়া এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। যেখানে নারীর অমূল্যায়িত কাজের মূল্যায়ন, স্বীকৃতি ও বণ্টনে তিন বছরের একটি প্রজেক্টের বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে একজন নারী সারাদিন যেখানে পৌনে সাত ঘণ্টা সেবামূলক কাজে ব্যয় করেন, সেখানে একজন পুরুষ ব্যয় করেন এক ঘণ্টা ২০ মিনিট।
ইউরোপিয়ান কমিশনের সহায়তায় ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গাইবান্ধা এবং লালমনিরহাট জেলায় গবেষণাটি তিন ধাপে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। দুই জেলার প্রাপ্তবয়স্ক বিবাহিত ২২৪ জন নারী এবং ১২১ জন পুরুষের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তৈরি করা হয় প্রতিবেদনটি।
রান্না করা, ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া, পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনা করাসহ যে কাজগুলো নারীরা পরিবারের জন্য করেন তাকে অমূল্যায়িত সেবামূলক কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রোগ্রাম ম্যানেজার লরেঞ্জা গামাকোর্টা বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। সেখানে নারীরা যে কাজগুলো করেন তার মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি থাকা প্রয়োজন’।
‘স্ট্রেন্থেনিং উইমেনস কালেকটিভস’ প্রকল্পটি বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল এই তিনটি দেশে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই প্রকল্পে ১৭৮টি দলের ৯২৮৮ জন নারীর সাথে ২০১৩ সালের মার্চ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০১৬ পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য নেয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের সামগ্রিক লক্ষ্য হল নারীদের সুষম কাজ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। এছাড়া নারীর অমূল্যায়িত সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি ও পুনর্বণ্টন এবং নারীদেরকে টেকসই কৃষি উৎপাদন ও ভ্যালু চেইনের সাথে সম্পৃক্ত করা।
