পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ দুই বান্ধবী রেহনুমা তাবাসসুম দোলা ও ফাতেমাতুজ জোহরা বৃষ্টি দুজনেরই ‘হদিস’ পাওয়া গেলো শেষ পর্যন্ত। যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল তা-ই সত্যি হলো। তারা দুজনেই ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন। সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত হয়েছিল আগেই। গতকাল মঙ্গলবার দোলার মরদেহ শনাক্তের খবর দিয়েছে সিআইডি। রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ের অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন দোলা ছাড়াও আরও চারজনের মরদেহ শনাক্ত করার কথা জানান। এ নিয়ে ১৬টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করলো সিআইডি। বাকি দুটির পরিচয় এখনও অজ্ঞাত। গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে দোলাসহ ৫ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া বাকি চার মরদেহ হলো হাজি ইসমাইল, ফয়সাল সারওয়ার, মোস্তফা ও মো. জাফর। মরদেহ গ্রহণ করেছেন স্বজনেরা। এছাড়া শনাক্ত হওয়াটি নিহত রোহানের বাবা মো. হাসান খানের কাছে হস্তান্তর করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গ কর্তৃপক্ষ।
সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন বলেন, ঘটনার পরদিন মর্গে ৬৮টি মরদেহের ব্যাগ পায় সিআইডি। এর মধ্যে ৪৮টি মরদেহ পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করায় তা হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ২০টি ব্যাগ থেকে ও ২৩টি পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা নিয়ে পরীক্ষা শুরু করা হয়। পরীক্ষার পর প্রথম ধাপে ১১টি মরদেহের পরিচয় মেলে। গতকাল আরো ৫টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
সিআইডি’র এই পদস্থ কর্মকর্তা আরো বলেন, ৬৬টি মরদেহের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে একটি খণ্ডিত হাত ও শরীরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করায় সেগুলো দুটি মরদেহ হিসাব করে লাশের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮। তবে ডিএনএ টেস্টের পর সিআইডি জানতে পারে বিচ্ছিন্ন হাতটি ছিল ২৩ নম্বর মরদেহ তানজিল হাসান রোহানের (২১)। গত ৬ মার্চ ডিএনএ’র মাধ্যমে তার মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়। তখন রোহানের মৃতদেহ নিয়ে দাফন করে তার পরিবার। আর দেহের ৩টি খণ্ডাংশ ছিল মরদেহ নম্বর ৮ ও ১৩ এর শরীরের। এ দুটি মরদেহও আগে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডির কাছে বর্তমানে দুটি মরদেহ ও তিনটি পরিবারের ডিএনএ নমুনা রয়েছে। তবে দুই মরদেহের সঙ্গে এ তিন পরিবারের কারো ডিএনএ নমুনার মিল পাওয়া যায়নি। তবে কেউ মরদেহগুলোর দাবি করলে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে মেলানো হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান শেখ হিমায়েত হোসেন।
এর আগে গত ৬ মার্চ ১১ জনের মরদেহ শনাক্ত করে সিআইডি। তারা হচ্ছেন ফাতেমাতুজ জোহরা বৃষ্টি, সালেহ আহমেদ, মো. ইব্রাহীম, মো. এনামুল হক, তানজীল হাসান, নাসরিন জাহান, মো. শাহীন আহমেদ, হাসান উল্লাহ, দুলাল কর্মকার, নুরুজ্জামান ও নুরুল হক।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার হাজি ওয়াহেদ ম্যানশনে কেমিকেল গোডাউনে বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে ৬৮ জন নিহত হওয়ার দাবি করে ঢাকা জেলা প্রশাসন। পরবর্তীতে গতকালের সিআইডির হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৬৬ জন। অগ্নিকাণ্ডের পর আহতদের মধ্যে চার জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। এ নিয়ে এই অগ্নিকাণ্ডে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৭০ জনে।
