ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষক অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। উভয় ফলাফলে মেধা তালিকায় ছিল প্রথমদিকে স্থান। উচ্চ মাধ্যমিকে সম্মিলিত মেধা তালিকায় চতুর্থ হন বিদিশা। কিন্তু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে কেন অর্থনীতি নিয়ে পড়লেন প্রশ্ন করলে উত্তর দেন অমর্ত্য সেন অর্থনীতিতে পড়ে নোবেল পুরস্কার পান, তা তাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। আবার পরিবারের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না যে তাকে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে। ফলে পছন্দের ইকোনোমিকস অর্থাত্ অর্থনীতিতেই তার পড়া। স্নাতক সম্মানে ভালো মেধার স্বাক্ষর রেখে কমনওলেয়থ স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্যের বাথ ইউনির্ভাসিটি থেকে মাস্টার্স করেন। কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে তিনি নটিংহাম ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডিও করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি ‘সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনোমিক মডেলিং’-এর গবেষণা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদিশা জানান, শিক্ষকতা তার কাছে আগ্রহের বিষয়, তাই পড়াশোনা শেষ করে তিনি শিক্ষকতাকেই বেছে নেন। তবে এর আগে বিশ্বব্যাংকের সহকারী গবেষকের দায়িত্বপালন করেন কিছুদিন। বর্তমানের শিক্ষক শিক্ষার্থীর সম্পর্কে নানা টানাপোড়েন প্রসঙ্গে বলেন, পুরো বিষয়কে সাধারণ করলে হবে না। এখন অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। অনেকে পড়াশুনা শেষ না করে দেশের বাইরে চলে যায়। ফলে মানের বিভিন্নতা দেখা যায়। আবার বিশ্বময় সময় বদলেছে, এ বদলে যাওয়া সময়ে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা ক্যারিয়ার নিয়ে একটা ইঁদুর দৌড়ে পড়ে যায়, ফলে তাদের দোষ দিয়েও লাভ নেই।
বিদিশার গবেষণার বিষয় শ্রমবাজার ও দারিদ্র্যতা। এ বিষয়সহ বেশকিছু বিষয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় তার। শ্রমবাজার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেন আজও সমাজ সেভাবে নারীবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি। তাই একেবারে নিম্নশ্রেণি থেকে শুরু করে উচ্চশ্রেণি পর্যন্ত নারীর অবস্থান ভিন্ন হলেও তারা সবাই প্রতিবন্ধকতা নিয়েই কাজ করছে। তিনি নিজে যখন উচ্চতর পড়াশুনার জন্য দেশের বাইরে যান, তখন অবিবাহিত ছিলেন। এ কারণে সমাজে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হন। আজ যখন শিক্ষকতা করছেন, তখনও দেখছেন সময়ের সাথে অবিবাহিতদের দেশের বাইরে যাওয়া বাড়ছে। আর সেই আলোচনাগুলো কমলেও বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হবে। বিদিশা আরও বলেন, সামাজিক কারণেই অনেক মেধাবী মেয়ের বাল্যবিবাহ হয়। অল্প বয়সে মা হয় তারা আবার সংসারের দায়িত্বও নেয়। কেউ কেউ আয়ের পথেও বেরিয়ে পড়ে। আবার সংসার সন্তানের কারণে ছেড়েও দেয়। এটা সব শ্রেণিতে দেখা যায় বলে উল্লেখ করেন বিদিশা। বলেন, আমার দুবছরের সন্তানকে রেখে আমি একটা কনফারেন্সে অংশ নিতে দেশের বাইরে যাচ্ছি। সন্তান আমার মায়ের কাছে থাকবে। আমাদের পরিবারের সহযোগিতা লাগে। আমি আমার শিশুকে বিশ্ববিদ্যালয়েও নিয়ে যাই। কর্মজীবী নারী আসলে অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যেই টিকে থাকে। এটা একবারে গার্মেন্টস থেকে সকল পর্যায়ে বিদ্যমান। এ অবস্থাটা পরিবর্তন করতে সমাজ, পরিবার আর রাষ্ট্রের ভূমিকার কথা জোর দিয়ে বলেন অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। প্রান্তিক নারী অর্থনীতিতে যুক্ত করতে ভূমিকাও রাখতে চান। তাই স্বপ্ন দেখছেন শ্রমবাজার আর দারিদ্র্যতা নিয়ে এমন এক গবেষণা করবেন যা বিশ্বের নামি দামি জার্নালে জায়গা করে নেবে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।
