নারায়ণগঞ্জে অবৈধ পার্কিংয়ে জনদুর্ভোগ

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ২৩:৪১

শহরের নিত্যদিনকার সমস্যা হচ্ছে যানজট। এই অসহনীয় যানজটের কারণে যাত্রাপথে ১০ মিনিটের রাস্তা ৩০ থেকে ৪০ মিনিটে গিয়ে গড়ায়। এভাবে প্রতিদিনই শহরবাসীর কাছ থেকে প্রায় কয়েক লাখ কর্মঘন্টা কেড়ে নিচ্ছে যানজট। যদিও সম্প্রতি পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের কঠোরতায় চাষাঢ়া এলাকার যানজট কিছুটা কমে এসেছে। তবে শহরের অন্যান্য এলাকায় যানজট যেন পিছু ছাড়ছে না। আর এই অসহনীয় যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে অবৈধ পার্কিং। ফলে শহরবাসীর যাত্রাপথে এই অবৈধ পার্কিং যেন গলার কাঁটা হিসেবে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা শহরের গলাচিপা মোড়, ২নং রেলগেট, ১নং রেলগেট, ডিআইটি এলাকা, নিতাইগঞ্জ মোড়, কালীরবাজার ও চারারগোপ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই অসহনীয় যানজট লেগে থাকে। এসকল এলাকা দিয়ে যাত্রাপথে ১০ মিনিটের রাস্তা ৩০ থেকে ৪০ মিনিটে গিয়ে পৌঁছায়। আর ৩০ মিনিটের রাস্তা গিয়ে পৌঁছায় ঘণ্টায়। ফলে প্রতিদিন শহরবাসীর জীবন থেকে প্রায় কয়েক লাখ কর্মঘণ্টা হারিয়ে যাচ্ছে। আর যাত্রাপথে এই দীর্ঘ বিলম্বের অন্যতম কারণ হিসেবে অবৈধ পার্কিং  বলে দায়ী করছেন সাধারণ নাগরিকবাসী। কারণ শহরের প্রধান সড়ক ঘেঁষে প্রায় শতাধিক মার্কেট রয়েছে। আর এসকল মার্কেটের অধিকাংশেই গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। ফলে এসকল মার্কেট আসা লোকজন এলোমেলোভাবে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করে রাখে। আর এই অবৈধ পার্কিংয়ের মাশুল গুনতে হয় সাধারণ নাগরিককে। তাদেরকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাস্তায় আটকে থাকতে হয়।

শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা রাকিব হোসেন সরকারি তোলারাম কলেজের একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। তিনি বলেন, ‘‘নিতাইগঞ্জ থেকে কলেজে যেতে তার প্রায় প্রতিদিনই ঘণ্টাখানেক সময় লেগে যায়। আর যেদিন যানজট থাকে না সেদিন তার কলেজে পৌঁছতে ১৫ মিনিট সময় লাগে।’’ রাকিব মনে করেন, যানজটের জন্য রাস্তার কর্নার ঘেঁষে অবৈধ গাড়ি পার্কিং দায়ী। কখনও কখনও এই পার্কিংয়ের কারণে এক সাড়ি করে গাড়ি চলাচল করতে হয়।

শহরের বন্দর এলাকার বাসিন্দা হচ্ছেন আল আমিন। তিনি শহরের চাষাঢ়া এলাকার একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। তাকে সময় মতো অফিস আসতে হয় অন্যথায় জরিমানা গুনতে হয়। তাই সময় মতো অফিসে আসার জন্য প্রতিদিন ২ ঘণ্টা সময় নিয়ে আসতে হয়। কারণ প্রতিদিন নদী পার হওয়ার পর প্রায় ঘণ্টাখানেকের মতো সময় লেগে যায় চাষাঢ়া এলাকায় পৌঁছাতে। তিনি মনে করেন, তার এই যাত্রাপথে বিলম্বের অন্যতম কারণ হচ্ছে গাড়ির অবৈধ পার্কিং। ডিআইটি প্রধান সড়কের নিকটবর্তী জায়গার এক পান দোকানদার বলেন, প্রায় প্রতিদিনই সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এসব গাড়ি গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির ওপর অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করে রাখে। খেয়াল খুশিমতো যে কোনো গাড়ি এসে হঠাত্ রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে যায়। ফলে এই পথে চলাচলকারীদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি

নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট চাষাঢ়াসহ শহরে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি বহু পুরানো। এটি নির্মাণের দায়িত্বে থাকা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। ফলে এখানকার ব্যস্ত সড়কগুলোতে ঝুঁকি নিয়েই চলতে হচ্ছে পথচারীদের, আর প্রায়ই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। কিন্তু নাসিকের উদাসীনতায় অতীব জরুরি এই সেবাটুকু পাচ্ছে না নগরবাসী।