দেশে প্রতিবছর প্রায় ১২ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে। প্রতিবছর ৪৩ শতাংশ শিশুর মৃত্যু ঘটছে পানিতে পড়ে। যাদের বয়স ১-৪ বছর। আর গড়ে প্রতিদিন এমন ঘটনা ঘটছে ১২টি ।
গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সাসস্টেইনেবিলিটি অব চাইল্ড ড্রউনিং প্রিভেনশন ইফোর্টস’শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্স বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি), জন হপকিংস ইন্টারন্যাশনাল ইনজুরি রিসার্স ইউনিট এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, সরকার শিশুদের সুরক্ষা দেয়ার ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ। তাই পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুরোধে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, কোনো শিশু খোলা আকাশের নিচে ঘুমাবে না। সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে পথশিশুদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পথশিশুদের সঠিক পরিসংখ্যান তৈরি করার জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া পথশিশুদের প্রকৃত সংখ্যা নিরুপণ করার পর তাদেরকে শিশু আশ্রমে রেখে পরিচর্যা করা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের হাওর ও নদী এলাকায়, বিশেষ করে বরিশালের কিছু জায়গায় প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে। আমরা আশা করি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি আরও কিছু মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করলে সব ধরনের ইনজুরি থেকে শিশু মৃত্যুরোধ সম্ভব।
ইতোমধ্যে আয়োজক তিন প্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুরোধে ‘সেভিং অব লাইফস ফ্রম ড্রাউনিং (সলিড) ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পটি ২০১২ সালে শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় দু’টি মডেল দাঁড় করানো হয়েছে। এর একটি হচ্ছে ‘আঁচল’ এবং অন্যটি ‘প্লেপ্যান’। বাংলাদেশের ৭টি উপজেলায় ৯ থেকে ৩৬ মাস বয়সী শিশুদের এই প্রকল্পের আওতায় এনে সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে।
পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুরোধে সলিড প্রজেক্টকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান কর্মশালায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা। এই প্রকল্প এক সময় পোলিওমুক্ত বাংলাদেশের মতো আদর্শ হিসেবে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন, হেলথ ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড রিসার্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর এ কে এম ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তত্তাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের (স্বাস্থ্য দপ্তরের) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর এএইচএম এনায়েত হোসেন, জন হপকিংস ইন্টারন্যাশনাল ইনজুরি রিসার্স ইউনিটের পরিচালক প্রফেসর ড. আদনান হাইদার, ইন্টারন্যাশনাল ড্রাউনিং রিসার্স সেন্টার বাংলাদেশের পরিচালক ড. আমিনুর রহমান প্রমুখ।
