প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম সতর্কবার্তা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা। একই সঙ্গে ওই সতর্কবার্তা বেজে উঠার সময় বিদ্যুত্ ও গ্যাস সরবরাহ লাইনে সংয়ক্রিয়ভাবে বন্ধ করার প্রযুক্তি স্থাপনেরও কথা বলেছেন তারা।
সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়রের নেতৃত্বে ২৬ সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত কমিটির প্রথম সভা নগরভবনে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে যোগ দিতে সব সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও এতে উপস্থিত হন মাত্র ৭ সংস্থার প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা বলেন, উন্নত দেশে ভূমিকম্প ও সুনানীসহ যে কোনো দুর্যোগ মুহূর্তে সংক্রিয় সতর্কবার্তার ব্যবস্থা রয়েছে। দুর্যোগ আসার মাত্র ১৫ সেকেন্ড আগে ওই যন্ত্রটি সতর্ক বার্তা দিতে থাকে। আর বার্তা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংযোগ স্থলে সরবরাহ বন্ধে সংয়ক্রিয় যন্ত্র স্থাপন করতে হবে। তবেই যে কোনো আপদ কালে বিদ্যুত্ বা গ্যাসের লাইনে বিস্ফোরণের কারণে বড় ধরনের ক্ষতি হবে না। এ যন্ত্রটি স্থাপন করতে খরচ হবে এক কোটি টাকা।
মেয়র জনান, বিশ্ব ব্যাংকের ১৭৩ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নে দুর্যোগ মোকাবেলায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও সিলেট সিটি করপোরেশনের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ দিয়ে ভূমিকম্প ও দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার কাজের জন্য সব ধপ্রণর যন্ত্রপাতি কেনা হবে। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হলে আগামী তিন বছরের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জন করবে।
সাঈদ খোকন বলেন, দুর্যোগের উপরে আমাদের কারো হাত নেই। তার পরেও আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি। বিশ্ব ব্যাংকের দেয়া ১৭৩ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে দক্ষিণ সিটির জন্য বরাদ্ধ ৯৫ মিলিয়ন ডলার। এ দিয়ে আমরা দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করতে পারবো।
ওয়াসা, ডেসা, তিতাস, রাজউক, ফায়ারসার্ভিসসহ সবধপ্রণর ইউটিলিটি সার্ভিস সংস্থাগুলোকে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার দাবি জানান মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, তবেই সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মেয়র আরও বলেন, কমিটি গঠন করার পর এটিই আমাদের প্রথম সভা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন মোতাবেক প্রতি দুই মাস অন্তর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করতে হবে। তাছাড়া আপদকালে প্রতি সপ্তাহে একটি করে সভা করার করতে হবে। কিন্তু আজ অনেকেই বৈঠকে আসেননি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, আমাদের সফলতা খুব কম। ঢাকায় কোনো বড়ধরনের ঘটনা ঘটলে রাষ্ট্রীয় সব ক্ষমতা প্রয়োগ করেও সফল হওয়া কঠিন হবে। এ জন্য প্রয়োজন প্রস্তুতি ও সতর্কতা।
অনুষ্ঠানে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান জিএম জয়নাল আবেদিন ভূইয়া, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল হালিম, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষে (মাউশি) প্রফেসর মো. ইলিয়াছ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
