দলে সৃষ্ট সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চান জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। সাক্ষাতের সুযোগ পেতে গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাননি। অন্যদিকে জিএম কাদেরকে দলের ‘কো-চেয়ারম্যান’ ঘোষণা এবং জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে সরিয়ে রুহুল আমিন হাওলাদারকে আবারও ‘মহাসচিব’ করার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করা পর্যন্ত নিজ অবস্থানে ‘অটল’ থাকার কথা জানিয়েছেন এরশাদ পত্নী ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। জানা গেছে, জাপায় চলমান সমস্যার বিষয়ে আলাপ করতে রওশনও প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হতে পারেন। যদিও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ইতিমধ্যে বলেছেন, জাপার সংকট দলটির অভ্যন্তরীণ বিষয়।
এরশাদ নিজেই ইত্তেফাককে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সুযোগ দিলে তিনি তার সঙ্গে দেখা করতে চান। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির ভিত্তিতেই তার ‘বিশেষ দূত’ পদ ছেড়ে আসতে চান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া তিনি বিশেষ দূতের পদ ত্যাগ করতে চাচ্ছেন না, কারণ তার মতে-এতে প্রধানমন্ত্রী ‘অসম্মান’ বোধ করতে পারেন। জাপার নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, এরশাদ এখনও সুযোগ না পেলেও রওশনপন্থী দুই নেতা এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
রওশন নিজ অবস্থানে এখনও ‘অনড়’, এই তথ্য জানিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার ইত্তেফাককে বলেন, ‘রবিবার সংসদ ভবনে দলীয় এমপিদের নিয়ে বৈঠকে রওশন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কো-চেয়ারম্যান ও মহাসচিব নিয়োগের দুটি সিদ্ধান্ত এরশাদ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তিনি তার অবস্থানেই থাকবেন।’ তাজুল জানান, ওইদিনের বৈঠক শেষে রওশন তাকে ব্যক্তিগতভাবেও একই কথা জানিয়েছেন।
৩১ জানুয়ারি যৌথসভা: সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, স্ত্রী রওশন, দলীয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একাংশ- এই ত্রিমুখী চাপে রয়েছেন এরশাদ। উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে বের হতে এবং দল নিজের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এটি প্রমাণ করতে আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে দলের যৌথসভা ডেকেছেন তিনি। রওশনকে বশে এনে সংকট কাটাতে ওই সভায় এরশাদ তাকে দলের ‘১ নম্বর’ বা ‘জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান’ ঘোষণা করতে পারেন, এমন বার্তাও দিচ্ছেন দলের কেউ কেউ। যৌথসভায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টা, ভাইস-চেয়ারম্যান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের পাশাপাশি প্রতিটি জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদেরও ডাকা হচ্ছে। যদিও এতে দলের মন্ত্রী, এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেরই উপস্থিতি নিয়ে সংশয় রয়েছে এরশাদ শিবিরে।
‘মানুষ জাপাকে বিরোধী দল মনে করে না’ :এদিকে জি এম কাদের ‘কো-চেয়ারম্যান’ ও ‘রুহুল আমিন হাওলাদার’ মহাসচিব হওয়ায় জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টি গতকাল জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে জিএম কাদের বলেন, মানুষ জাপাকে বিরোধী দল নয়-সরকারের অংশ বলে মনে করে। এ কারণে পৌরসভা নির্বাচনে মানুষ ‘লাঙল’ মার্কায় ভোট না দিয়ে ‘নৌকা’য় ভোট দিয়েছে। সরকারের মন্ত্রিসভায় জাপার তিনজনের থাকা নিয়ে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘এখন তো দেশে জরুরি অবস্থা চলছে না যে, সব দলকে নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করতে হবে।’ সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জাপাকে যখন বিরোধী দলে স্থান দিয়েছেন, তখন তাদের বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিন। আমাদের দল সংসদকে কার্যকর করতে চায়, বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে চায়। জাপার কাজ হবে বিরোধী দল হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা। কিন্তু জাপা সরকারে থাকায় সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পারেনি।’
জি এম কাদের আরো বলেন, ‘জাপার অবস্থান জনগণের কাছে অস্পষ্ট। কারণ জাপা একদিকে বিরোধী দল, আবার অন্যদিকে সরকারের মন্ত্রিসভায় আছে। এর মধ্য দিয়ে জাপাকে জনসমর্থনহীন দলে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু জনগণ জাপাকে কলুষমুক্ত দেখতে চায়। জাপার সংসদ সদস্যরা সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবেন, বিরোধী দল হিসেবে জাপা রাজপথেও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।’
দলে বিভক্তি কোনো পর্যায়ে, সেটির প্রমাণ মেলে গতকালের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। জিএম কাদের ও হাওলাদারকে দেয়া প্রথম এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও দলের মাত্র দুজন প্রেসিডিয়াম সদস্য- মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা) ও মীর আবদুস সবুর আসুদ উপস্থিত ছিলেন। আর ছিলেন একজন ভাইস-চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী। দলের কোনো মন্ত্রী-এমপিসহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের এতে দেখা যায়নি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতি বাদল খন্দকার।
হাওলাদারের বিরুদ্ধে হুলিয়া:একটি দুর্নীতি মামলায় জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে সোমবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন যশোরের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা। এই মামলার আরেক আসামি ও এতদিন পলাতক থাকা মীর শহিদুল্লাহ আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে।
দলে সৃষ্ট সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চান জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। সাক্ষাতের সুযোগ পেতে গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাননি। অন্যদিকে জিএম কাদেরকে দলের ‘কো-চেয়ারম্যান’ ঘোষণা এবং জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে সরিয়ে রুহুল আমিন হাওলাদারকে আবারও ‘মহাসচিব’ করার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করা পর্যন্ত নিজ অবস্থানে ‘অটল’ থাকার কথা জানিয়েছেন এরশাদ পত্নী ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। জানা গেছে, জাপায় চলমান সমস্যার বিষয়ে আলাপ করতে রওশনও প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হতে পারেন। যদিও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ইতিমধ্যে বলেছেন, জাপার সংকট দলটির অভ্যন্তরীণ বিষয়।
এরশাদ নিজেই ইত্তেফাককে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সুযোগ দিলে তিনি তার সঙ্গে দেখা করতে চান। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির ভিত্তিতেই তার ‘বিশেষ দূত’ পদ ছেড়ে আসতে চান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া তিনি বিশেষ দূতের পদ ত্যাগ করতে চাচ্ছেন না, কারণ তার মতে-এতে প্রধানমন্ত্রী ‘অসম্মান’ বোধ করতে পারেন। জাপার নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, এরশাদ এখনও সুযোগ না পেলেও রওশনপন্থী দুই নেতা এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
রওশন নিজ অবস্থানে এখনও ‘অনড়’, এই তথ্য জানিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার ইত্তেফাককে বলেন, ‘রবিবার সংসদ ভবনে দলীয় এমপিদের নিয়ে বৈঠকে রওশন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কো-চেয়ারম্যান ও মহাসচিব নিয়োগের দুটি সিদ্ধান্ত এরশাদ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তিনি তার অবস্থানেই থাকবেন।’ তাজুল জানান, ওইদিনের বৈঠক শেষে রওশন তাকে ব্যক্তিগতভাবেও একই কথা জানিয়েছেন।
৩১ জানুয়ারি যৌথসভা: সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, স্ত্রী রওশন, দলীয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একাংশ- এই ত্রিমুখী চাপে রয়েছেন এরশাদ। উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে বের হতে এবং দল নিজের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এটি প্রমাণ করতে আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে দলের যৌথসভা ডেকেছেন তিনি। রওশনকে বশে এনে সংকট কাটাতে ওই সভায় এরশাদ তাকে দলের ‘১ নম্বর’ বা ‘জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান’ ঘোষণা করতে পারেন, এমন বার্তাও দিচ্ছেন দলের কেউ কেউ। যৌথসভায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টা, ভাইস-চেয়ারম্যান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের পাশাপাশি প্রতিটি জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদেরও ডাকা হচ্ছে। যদিও এতে দলের মন্ত্রী, এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেরই উপস্থিতি নিয়ে সংশয় রয়েছে এরশাদ শিবিরে।
‘মানুষ জাপাকে বিরোধী দল মনে করে না’ :এদিকে জি এম কাদের ‘কো-চেয়ারম্যান’ ও ‘রুহুল আমিন হাওলাদার’ মহাসচিব হওয়ায় জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টি গতকাল জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে জিএম কাদের বলেন, মানুষ জাপাকে বিরোধী দল নয়-সরকারের অংশ বলে মনে করে। এ কারণে পৌরসভা নির্বাচনে মানুষ ‘লাঙল’ মার্কায় ভোট না দিয়ে ‘নৌকা’য় ভোট দিয়েছে। সরকারের মন্ত্রিসভায় জাপার তিনজনের থাকা নিয়ে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘এখন তো দেশে জরুরি অবস্থা চলছে না যে, সব দলকে নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করতে হবে।’ সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জাপাকে যখন বিরোধী দলে স্থান দিয়েছেন, তখন তাদের বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিন। আমাদের দল সংসদকে কার্যকর করতে চায়, বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে চায়। জাপার কাজ হবে বিরোধী দল হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা। কিন্তু জাপা সরকারে থাকায় সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পারেনি।’
জি এম কাদের আরো বলেন, ‘জাপার অবস্থান জনগণের কাছে অস্পষ্ট। কারণ জাপা একদিকে বিরোধী দল, আবার অন্যদিকে সরকারের মন্ত্রিসভায় আছে। এর মধ্য দিয়ে জাপাকে জনসমর্থনহীন দলে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু জনগণ জাপাকে কলুষমুক্ত দেখতে চায়। জাপার সংসদ সদস্যরা সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবেন, বিরোধী দল হিসেবে জাপা রাজপথেও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।’
দলে বিভক্তি কোনো পর্যায়ে, সেটির প্রমাণ মেলে গতকালের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। জিএম কাদের ও হাওলাদারকে দেয়া প্রথম এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও দলের মাত্র দুজন প্রেসিডিয়াম সদস্য- মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা) ও মীর আবদুস সবুর আসুদ উপস্থিত ছিলেন। আর ছিলেন একজন ভাইস-চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী। দলের কোনো মন্ত্রী-এমপিসহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের এতে দেখা যায়নি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতি বাদল খন্দকার।
হাওলাদারের বিরুদ্ধে হুলিয়া:একটি দুর্নীতি মামলায় জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে সোমবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন যশোরের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা। এই মামলার আরেক আসামি ও এতদিন পলাতক থাকা মীর শহিদুল্লাহ আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে।
