‘আমি ধোলাইখাল থেকে পানি নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগর গড়িনি। আর বাংলাদেশ থেকে হুন্ডি করে বিদেশে এত টাকা জমানো সম্ভব নয়। পৃথিবীর ৪০টি দেশের সঙ্গে আমার ব্যবসা, ৪০ দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমার ব্যবসা। সেই সব দেশের সঙ্গে যত বিল সেটেল হয়েছে তা সুইস ব্যাংকে ট্রান্সফার হয়েছে। বরং আমার কোম্পানির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা দেশে এনেছি।’ বৃহস্পতিবার দুদক কার্যালয়ে দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে অনুসন্ধান দলের সদস্যরা ড. মুসা বিন শমসেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর দুদক কার্যালয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
সকাল পৌনে ১১ টার দিকে বিশাল গাড়িবহর আর সুসজ্জিত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর অর্ধশত দেহরক্ষী নিয়ে দুদকে আসেন মুসা বিন শমসের। কিন্তু দেহরক্ষীদের বাইরে রেখেই তাকে ভিতরে ঢুকতে হয়। দুদকের প্রধান ফটক কার্যদিবসে খোলা থাকলেও এদিন বন্ধ রাখা হয়। দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া কাউকেই ভিতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চপ্পু এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, মুসা বিন শমসেরের (প্রিন্স মুসা) দেয়া সম্পদের তথ্যে ‘গড়মিল’ আছে। কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা মুসার সুইচ ব্যাংকের ওই একাউন্টের তথ্য পাবে। জিজ্ঞাসাবাদে মুসা জানিয়েছেন, তার পার্টনার কিছুদিনের মধ্যেই ওই একাউন্টের কাগজপত্র দেশে পাঠিয়ে দিবে। এরপর মুসা তা কমিশনে সরবরাহ করবে। গুলশান ও বনানীতে দুটি বাড়ি ছাড়া সাভার ও গাজীপুরে এক হাজার ২০০ বিঘা জমির বিষয়ে মুসা দুদককে জানান, যে আইনজীবী এ সব দেখাশোনা করতেন তিনি মারা গেছেন। অল্পদিনের মধ্যেই ওই সব জমির কাগজপত্র কমিশনে দাখিল করবেন।
দুদকের অনুসন্ধানে মুসা অসহযোগিতা করেছেন মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, কমিশনের অনুসন্ধানে মুসা অসহযোগিতা করেছেন। এ কারণে অনুসন্ধান শেষ করতে সময় লাগছে। তবে অনুসন্ধানে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। এখন আর তেমন সময় লাগবে না। মুসার জমা দেয়া সম্পদের হিসাবে গড়মিল পাওয়া গেছে।
