শহুরে কৃষক

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৬, ১২:২৯
চারদিকে সবুজের ছড়াছড়ি। বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে সবজির ক্ষেত। এর মধ্যে বাঁধাকপি ক্ষেতে ছাউনি দিয়ে পরিচর্যা করছেন কৃষক। কোথাও সেচের জন্য নালা কাটা হচ্ছে। কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জমির মাটি আলগা করছেন কেউ কেউ। কোথাও চাষ করা হচ্ছে নানা জাতের শাক। না, এটি কোনো গ্রাম এলাকার দৃশ্য নয়। বলছিলাম খোদ রাজধানীর সবজি ক্ষেতের কথা।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর একেবারে ভেতরে খিলগাঁও, মোহাম্মদপুর, কমলাপুরের টিটিপাড়া, ডেমরার আমুলিয়া, মতিঝিলের বিভিন্ন কলোনি, মুগদার মান্ডাসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অসংখ্য সবজি ক্ষেত। এসব ক্ষেত থেকে তরতাজা সবজি সরবরাহ করা হচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে। শীতকাল ছাড়া বছরের অন্য সময়েও এখানে চাষ হয়।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষেত আছে মান্ডায়। মাণ্ডার জলাভূমি ও নিম্নাঞ্চলে বিভিন্ন প্লটে ভাগ করে সবজি চাষ করা হয়েছে। অনেকেই নিজ নিজ ক্ষেতে শাক-সবজির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবদুল আল নামের এক কৃষক জানান, পরিবার নিয়ে উত্তর মাণ্ডায় থাকেন। পেশায় রিকশা চালক হলেও প্রতি মৌসুমে সবজি চাষ করেন। ইটের ঘের দেয়া তিনটি প্লটের প্রায় চার একর জায়গায় সবজি চাষ করেছেন তিনি। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে।
 
আরেক কৃষক সহিদ উল্লাহ জানান, এক একর জমিতে লালশাক, পুঁই, পালং, ডাঁটা, মূলা, লাউ, ধনেপাতাসহ অন্যান্য সবজি চাষ করা হয়েছে। নিম্নাঞ্চল ও পলিমাটি থাকায় চাষাবাদে বাড়তি খরচ হয় না। তাই কৃষকদের আগ্রহ বেশি।
 
মোহাম্মদপুর এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আনোয়ার বলেন, অনেকে আমাদের বলে শহুরে কৃষক। কাজের ফাঁকে ক্ষেতে সবজি চাষ করি। নিজেই জমিতে নালা কেটে সেচের ব্যবস্থা করি। ক্ষেতের সবজি খুব একটা বিক্রি করা হয় না। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে মধ্যে সবজি সরবরাহ করি। নিজে খাই, অন্যকেও খাওয়াই।
 
খিলগাঁও এলাকায় সবজি চাষ করেন বিলকিস বেগম। তিনি বলেন, কলোনির জমিতে পালংশাকের ক্ষেত করেছি। স্বামী রিকশা চালাতে বাইরে যান। আমি ক্ষেতে কাজ করি। শীত ছাড়াও বছরের অন্য সময়ও নানা ফসলের চাষ করি।
 
কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর আশপাশে ১৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। এসব ইউনিয়নের প্রায় ১৯ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে কৃষিকাজ হয়। এরমধ্যে বোরো ধানের আবাদ হয় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। মাণ্ডায় ১৯৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। কিছু জমিতে বোরো চাষ হলেও সিংহভাগেই মৌসুমী শাক-সবজি চাষ করেন স্থানীয় কৃষকরা।
 
কৃষি কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মাণ্ডায় প্রায় সময়ই কোনো না কোনো সবজি চাষ হয়। এরমধ্যে বেশিরভাগই মৌসুমী সবজি। উত্পাদিত সবজি নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাজারেও সরবরাহ করা হয়। মাণ্ডায় ৪০০ পরিবার বিভিন্ন ভাবে কৃষিকাজে জড়িত। এরমধ্যে ভূমিহীন ৭০ শতাংশ, যারা অন্যের জমিতে চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। এটা খুবই ইতিবাচক একটা ব্যাপার।