প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের খোঁজে কুমিল্লার লালমাই পাহাড় এলাকায় খনন কার্যক্রম চলছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন জেলার কোটবাড়ী-কালীরবাজার সড়কের পাশে ‘হাতিগাড়া মুড়া’ নামে পাহাড় চূড়ায় বৃহস্পতিবার এ খনন কাজ শুরু করা হয়। মুড়ার উপরিভাগে কোদাল দিয়ে কোপ দেয়ার পর বেরিয়ে আসছে প্রাচীনকালের ইটের টুকরা। তাতে রয়েছে প্রাচীন আমলের স্থাপনার চিহ্ন। ২ ফুট গর্ত করে খোঁড়ার পরই প্রত্ন সম্পদ প্রাপ্তির উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন খনন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, এখানে প্রাচীন ‘ওয়াচ টাওয়ার’ বা মূল্যবান প্রত্নবস্তু থাকতে পারে। আগামী দুই মাসব্যাপী এ খনন কার্যক্রম চলবে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কোটবাড়ী এলাকার হাতিগাড়া মুড়া খনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল। এসময় অন্যদের মধ্যে ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. সোহরাব উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিনহাজুর রহমান, ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান আহমেদ আব্দুল্লাহ প্রমুখ।
লালমাই-ময়নামতি পাহাড় এলাকার ১১ কিলোমিটারের মধ্যে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর প্রাচীনকালের প্রত্নবস্তু-নিদর্শন উন্মোচনের জন্য ৫৪টি সাইট চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ২৩টি সাইট খননযোগ্য অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে। এ ২৩টি পুরাকীর্তির মধ্যে বিভিন্ন সময়ে শালবন বিহার, রূপবান মুড়া, কুটিলা মুড়া, ইটাখোলা মুড়া, লতিকোট মুড়া, ময়নামতির রাণীর বাংলো, আনন্দ বিহার, ভৌজ বিহার, ময়নামতি মাউন্ট-১ এর বি, ময়নামতি মাউন্ট-২, চারপত্র মুড়াসহ ১১টি মুড়া খনন করা হয়েছে। পাওয়া গেছে মূল্যবান প্রত্নবস্তু। অপর ১২টি এ পর্যন্ত খনন করা হয়নি। এ বছর নতুন করে লালমাই পাহাড়ের ‘হাতিগাড়া মুড়া’ খননের উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। এ মুড়ার উচ্চতা প্রায় ১৫০ ফুট। মুড়ার উপরিভাগে ৩০ বর্গমিটার স্থানে এ খনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়।
ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান আহমেদ আব্দুল্লাহ জানান, আমাদের ২৩টি প্রত্নতত্ত্ব সাইটের মধ্যে ১১টি খনন করা হয়েছে। অপর ১২টির মধ্যে হাতিগাড়া মুড়ার খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ মুড়াটি খননের পূর্বে এখান থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য নিদর্শনের কিছু চিহ্ন ইতিমধ্যে উন্মোচিত হয়েছে। খননের পর প্রাচীন যুগের দুর্লভ নিদর্শনসহ এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত হওয়া যাবে বলে আমরা মনে করছি।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) লাভলী ইয়াসমিন জানান, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এ খনন কাজটি করছে। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন দক্ষ শ্রমিক এখানে কাজ করবেন। তিনি আরো জানান, এ যাবত্কালে খননের মাধ্যমে লালমাই-ময়নামতি এলাকায় ৬ষ্ঠ শতক থেকে ১২ শতক পর্যন্ত প্রাচীন পুরাকীর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে। এ অঞ্চলে ৬টি রাজবংশের ৩৪ জন রাজা রাজত্ব করেছেন বলে জানা গেছে। হাতিগাড়া মুড়া এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
