আইনজীবী থেকে নায়িকা

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৯, ১৯:১৫

রে জা উ ল  ক রি ম  খো ক ন

 

দক্ষিণী সিনেমা থেকে বলিউডে পা রাখা নায়িকার সংখ্যা বাড়ছে ক্রমেই। তামিল, তেলেগু, মালায়লম, কানাড়া ভাষায় নির্মিত সিনেমাগুলোয় অভিনয় করে বিপুল জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি পেলেও সর্বভারতীয় সেলিব্রিটি হতে হলে বলিউডের সিনেমায় অভিষিক্ত হওয়া ছাড়া ভিন্ন কোনো পথ খোলা নেই। যে কারণে দক্ষিণী সিনেমা জগত্ থেকে যুগে যুগে হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করতে এসেছে অগণিত অভিনেতা-অভিনেত্রী। তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ বৈজয়ন্তীমালা হয়েছে; শ্রীদেবী, জয়প্রদার মতো সুপারস্টার হয়েছে; রেখার মতো চিরদিনের অনন্যা অভিনেত্রীর মর্যাদা ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। তাদের অনুসারী হয়ে ক্যারিয়ারের বিস্তৃতি ঘটাতে এখনো প্রচুর দক্ষিণী সিনেমার অভিনেত্রী বলিউডের নতুন ইনিংস শুরু করছে। এ সপ্তাহে তেমনি এক নায়িকার অভিষেক হচ্ছে বলিউডে। তার নাম শ্রদ্ধা শ্রীনাথ। এত দিন তাকে দক্ষিণী, কানাড়া ও তামিল সিনেমায় দেখা গেছে। কানাড়া ভাষার সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘ইউ-টার্ন’-এ দুর্দান্ত অভিনয় করে এরমধ্যে সেরা অভিনেত্রীর ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড নিজের ঝুলিতে পুরেছেন। এছাড়াও ‘উরভি’, ‘বিক্রম ভেদা’ ও ‘অপারেশন আর্লমেলাম্ম’ ছবিগুলোয় তার সুঅভিনয় দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। মজার ব্যাপার হলো দক্ষিণী সিনেমার অঙ্গনে শ্রদ্ধা শ্রীনাথ খ্যাতি ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছালেও তার জন্ম কাশ্মিরের উধামপুরে। যদিও তার জন্ম এক কানাড়া পরিবারে। বাবা একজন আর্মি অফিসার, কাজ করতেন জম্মু কাশ্মিরের কমান্ড হাসপাতালে। মা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। বাবার চাকরিসূত্রে সারা ভারতে বিভিন্ন জায়গায় পরিবারের সঙ্গে থাকতে হয়েছে শ্রদ্ধাকে। সেকান্দ্রাবাদের আর্মি স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে ব্যাঙ্গালোরে ইনস্টিটিউট অব লিগ্যাল স্টাডিজে ভর্তি হন। ল’ স্কুল থেকে আইন বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন করে ব্যাঙ্গালোরের এক রিয়েল অ্যাস্টেট কোম্পানিতে রিয়েল অ্যাস্টেট আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। সেখান থেকে একটি ফেঞ্চ রিটেইল কোম্পানিতে আইন উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করেন শ্রদ্ধা। ফুলটাইম কর্পোরেট চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকার পরেও তিনি ফাঁকে ফাঁকে নাটকে অভিনয়, মডেলিং চালিয়ে যেতে থাকেন। এভাবেই সেখানকার শোবিজ, গ্ল্যামার জগতের লোকজনদের কাছাকাছি চলে আসার সুযোগ পান। একটি ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে তাকে দেখে মালায়লাম সিনেমা ‘কোহিনূর’-এ দ্বিতীয় নায়িকা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেন নির্মাতারা। এভাবেই শ্রদ্ধা শ্রীনাথের রুপালি পর্দায় অভিষেক হয়েছিল। তবে কানাড়া ভাষা সিনেমা ‘ইউ-টার্ন’-এর মাধ্যমে সিনেমায় তার আত্মপ্রকাশ ঘটে বেশ ভালোভাবেই। ২৮ বছর বয়সী শ্রদ্ধা শ্রীনাথ দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে বলিউডে পা রাখছেন তিসমাংশু ধুলিয়ার নতুন সিনেমা ‘মিলন টকিজ’-এর মাধ্যমে। রোমান্টিক ড্রামা ধাঁচের সিনেমাটিতে তার বিপরীতে আছেন তরুণ প্রজন্মের অভিনেতা আলি ফজল। আইন পেশায় সিরিয়াসলি জড়িত থাকা শ্রদ্ধা এখন পুরোদস্তুর অভিনেত্রী। ‘একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমার দৃষ্টি এখন পরবর্তী সিনেমার দিকে। সবাই আমার কাজ দেখে কী রকম প্রতিক্রিয়া জানায় তা দেখার প্রতীক্ষায় রয়েছি আমি,’ বলেন শ্রদ্ধা শ্রীনাথ।