বায়ুদূষণ প্রতিরোধে সোচ্চার হোন

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৯, ২১:০৪

বাংলাদেশে বায়ুদূষণের হার দিন দিন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশ আর কিছুতে বিশ্বে প্রথম হোক বা না হোক দুর্ভাগ্যবশত বায়ুদূষণে আগে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও বর্তমানে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। ব্যাপারটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। কিন্তু এটা আমাদের জন্য আরো দুঃখজনক যে, বায়ুদূষণের মূল কারণ হলো মনুষ্য সৃষ্ট কিছু কাজ। মানুষ বায়ুদূষণের প্রতি একেবারেই অসচেতন। তারা বায়ুদূষণকে একেবারেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখে না। যার কারণে বায়ুদূষণ হয়ে উঠছে মানুষের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। সাধারণত দুটি কারণে বায়ুদূষণ ঘটে থাকে। ১. প্রাকৃতিক উত্স ও ২. মানবসৃষ্ট উত্স। দাবানল থেকে ধূলো, জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই, ঝড়-বৃষ্টির কারণে বায়ুদূষণ ঘটে। যা প্রাকৃতিক কারণেই হয়ে থাকে। এগুলো মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিছু প্রাকৃতিক কারণ ছাড়া মানবসৃষ্ট কারণেই বায়ুদূষণ ঘটে বেশি। মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বায়ুদূষণের ক্রমবিকাশ। মানুষ যখন থেকে আগুন জ্বালাতে শিখে, তখন থেকে ধ্বংস হতে থাকে জীবন-প্রাণ অক্সিজেন। সৃষ্টি হয় ধোঁয়া। তাছাড়া কলকারখানা, যানবাহন, ইটের ভাটা ও জমিতে ব্যবহার করা কীটনাশক ইত্যাদি বায়ুতে মিশে বায়ুকে বিষাক্ত করে তুলছে। যানবাহনগুলো বায়ুতে বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গত করে। কলকারখানা, ইটের ভাটা যেসব কালো ধোঁয়া নির্গত করে তা বায়ুতে মিশে বায়ুকে দূষিত করে দিচ্ছে। বায়ুতে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। তাছাড়া এসব ধোঁয়া আকাশে উড়ে গিয়ে মেঘের মতো একটা আস্তরণ তৈরি করে, যার ফলে হচ্ছে এসিড বৃষ্টি। এসিড বৃষ্টি আমাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাছাড়া মানুষ ঘরের সব ময়লা-আবর্জনা- স্কুল, কলেজ, অফিস, দোকান-পাট ইত্যাদি কর্মক্ষেত্রের সকল ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলে রাখে। তাছাড়া দেখা যায় পশু-পাখির মৃতদেহ যেখানে-সেখানে ফেলে রাখা হয়, যার ফলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে বায়ুতে মারাত্মকভাবে দূষণ ঘটে। এসব ময়লা-আবর্জনা কেবল বায়ুদূষণই নয়, বৃষ্টির স্রোতে বা বিভিন্ন কারণে নদী-নালা, খাল-বিলের পানিতে মিশে পানি দূষণও ঘটাচ্ছে। এছাড়াও বায়ুদূষণের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন-মনো-অক্সাইডের পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা কিনা জীব ও প্রাণী জাতির জন্য খুবই ক্ষতিকর। এটি খুব সহজেই গ্যাসীয় ভারসাম্যের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। অন্যদিকে এয়ার কন্ডিশনার এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডার থেকে উত্পন্ন হচ্ছে ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন।

মানুষ ঘর-বাড়ি তৈরির জন্য গাছপালা কাটছে, পাহাড় ও বন উজার করছে, নদীনালা ভরাট করে ফেলছে। বাংলাদেশে যেখানে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকার কথা সেখানে বন আছে মাত্র ১৭ ভাগ। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে অক্সিজেনের পরিমাণ কতটা হ্রাস পাচ্ছে। আর কি পরিমাণ হারে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি ঘটছে কার্বন-ডাই-অক্সাইডসহ অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাসের পরিমাণ। বায়ুদূষণের ফলে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কঠিন রোগে। যেমন-যক্ষ্মা, কলেরা, ডায়রিয়া ইত্যাদি জটিল ও কঠিন রোগে। অনেক সময় দেখা যায় কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটছে অনেক মানুষের। আমরা কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করলেই বায়ুদূষণ কিছুটা হলেও এড়ানো সম্ভব। যেমন:-

ময়লা-আবর্জনার নিরাপদ অপসারণ। ২. ইটের ভাটায় কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধকরণ।  ৩. শিল্পকারখানাগুলোতে পরিবেশ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা। ৪. শিল্পকারখানাগুলোর বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ।  ৫. প্রাকৃতিক কীটপতঙ্গের ধ্বংস হ্রাসকরণ এবং কীটনাশক ব্যবহার হ্রাস করা।  ৬. বায়ুদূষণ সম্পর্কিত আইনগত কাঠামো শক্তিশালীকরণ ইত্যাদি। পৃথিবীর সকল মানুষ কোনো না কোনো পরিবেশে বাস করে। পরিবেশে বাস করা আমাদের একান্ত প্রয়োজন। কারণ কোনো মানুষের পক্ষেই একা একা বাস করা সম্ভব নয়। পরিবেশের ক্ষতি করা মানে খাল কেটে কুমির ডেকে আনা। পরিবেশের ক্ষতি করা মানে আমার নিজের ক্ষতি করা। তাই আসুন সবার জন্য না হয়, অন্তত নিজের জন্য হলেও আমরা বায়ুদূষণ প্রতিরোধে সোচ্চার হই। আমাদের সকলের একটু সচেতনতাই বায়ুদূষণ রোধ করে এই পৃথিবীটাকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারি। আর আমরা সকলেই সুরে সুর মিলিয়ে বলি, বায়ুদূষণ রোধ করি - সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ি।

n লেখক :শিক্ষার্থী, কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।