উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে স্বাধীনভাবে চলাফেরার অনুমতি দেয়া উচিত বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের প্যানেল। শুক্রবার তাদের রায়ে এই কথা জানায় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
জাতিসংঘের প্যানেল জানায়, অ্যাসাঞ্জ এর এই বন্দীত্ব দূর করা উচিত এবং তার শারীরিক ও মানসিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা উচিত। একইসঙ্গে তাকে এতদিনের ক্ষতিপূরণও দেয়া উচিত বলে জানায় প্যানেল।
যৌন হয়রানির একটি মামলায় জেরার জন্য সুইডেনে তার হস্তান্তর ঠেকাতে ২০১২ সালে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন অ্যাসাঞ্জ । দূতাবাস থেকে বের হলেই তাকে গ্রেপ্তার করার পরোয়ানা জারি থাকায় অ্যাসাঞ্জ ২০১৪ সালে তাকে 'ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখার' অভিযোগ জানিয়েছিলেন জাতিসংঘে।
এদিকে জাতিসংঘ প্যানেলের রায় আসার আগে বৃহস্পতিবার অ্যাসাঞ্জ এক টুইটবার্তায় জানান, সুইডেনের কাছে হস্তান্তর এড়াতে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস ছাড়বেন তিনি। একই সঙ্গে জাতিসংঘ প্যানেল তার বিপক্ষে মত দিলে তিনি পুলিশের কাছে ধরা দিতেও রাজি থাকার কথা জানান।
অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ব্রিটেনে এবং পুরো ইউরোপে এখনো জারি রয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। দূতাবাস ছাড়লে তিনি এখনো গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ পুলিশ। অ্যাসাঞ্জ দূতাবাস থেকে বের হলেই ব্রিটিশ পুলিশ তাকে আটক করে সুইডেনের কাছে হস্তান্তর করবে। অ্যাসাঞ্জের আশঙ্কা, সুইডেন পাঠানো হলে এরপর তাকে আমেরিকার হাতে তুলে দেয়া হতে পারে।
২০১০ সালে উইকিলিকস ওয়েবসাইটে ধারাবাহিকভাবে আফগান ও ইরাক যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ অনেক গোপন দলিল এবং আমেরিকান সরকারের গোপন কূটনৈতিক তারবার্তা ফাঁস করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। কিন্তু গোপন তথ্য ফাঁস করে ওয়াশিংটনের তোপের মুখে পড়েন তিনি। এরপর থেকেই অ্যাসাঞ্জকে আটক করার চেষ্টা করছে আমেরিকা। ২০১০ সালে সুইডেনে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের একটি মামলাও হয়। সুপ্রিমকোর্ট অ্যাসাঞ্জকে সুইডেনে হস্তান্তরের সবুজ সংকেত দিলে তিনি লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন। তখন থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। বিবিসি
