কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়াম কিংবা হলচুকে মাঠের মতো অতটা গোছানো নয় বিরাটনগরের শহীদ রঙ্গশালা। স্টেডিয়াম বলা হলেও সেটি দশরথের সঙ্গে তুলনা করার মতো নয়। কারণ রঙ্গশলার মাঠের সবুজ ঘাস খুব বেশি উন্নত না। তারপরও ওখানকার মাঠ কোনো রকমে চালিয়ে দেবার মতো। আগামী এসএ গেমস ফুটবলের খেলা এখানে হতেও পারে। আয়োজক নেপাল এমন ভাবনা মাথায় রেখে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে একটা পরীক্ষাও নিয়ে ফেলছেন নেপালের আয়োজকরা।
বিরাটনগরে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এরই মধ্যে জমে উঠেছে। গত মঙ্গলবার উদ্ধোধনী দিনে নেপাল ৩-০ গোলে ভুটানের বিপক্ষে জিতেছিল। সেদিনই প্রায় তিন হাজার দর্শক খেলা দেখেছে। প্রচার প্রচারণায় খুব এগিয়ে না থাকলেও নেপালের জয়ে এরই মধ্যে নারী সাফের সুবাস ছড়িয়েছে। খেলোয়াড়দের স্টেডিয়ামে যাওয়া আসার পথেও দর্শক উঁকি দিচ্ছেন নারী ফুটবলারদের দিকে। আগ্রহ বাড়ছে সাফের লড়াইয়ে।
বিরাটনগরের সাধারণ মানুষের কাছে বাংলাদেশের ফুটবলের খুব একটা পরিচিতি নেই। তারপরও বাংলাদেশি সংবাদ মাধ্যমের সরব উপস্থিতি দেখে বাড়তি নজর রাখছেন সাবিনা, সানজিদা, তহুরা, মনিকাদের দিকে।
দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হচ্ছে আজ। বাংলাদেশ আজ তাদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের মুখোমুখি হবে। বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া ৩টায় শুরু হবে খেলাটি।
মাঠে নামার আগে ভুটান এবং বাংলাদেশের ম্যাচের অংকের হিসাবটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। সহজ হিসাবে বলতে গেলে বাংলাদেশ যদি আজ ভুটানকে হারায় তাহলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে। কারণ এই গ্রুপে নেপাল প্রথম ম্যাচেই ভুটানকে হারিয়ে সুবিধাজনক স্থানে চলে গেছে। বাংলাদেশের জয়ে নেপালও সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলবে। বাংলাদেশের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন বারবার একই কথা বলছেন তার মেয়েদের। কোনো ভাবেই প্রথম ম্যাচটা হেলাফেলা করা যাবে না। প্রথম ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ।
মিয়ানমারে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল বাছাইয়ে খেলে এসে বাংলার মেয়েরা সাফে খেলতে নেপালে গেছে। সাফের বর্তমান রানার্সআপ বাংলাদেশের প্রথম লক্ষ্য সেমিফাইনালে যাওয়া। কারণ সেমিফাইনালের হিসাবটাই হচ্ছে বাংলাদেশের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেমিফাইনালে গেলেই হবে না।
কোচ ছোটন হিসাব করছেন সেমিফাইনালের সম্ভাব্য বিপক্ষকে নিয়েও। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে অন্য গ্রুপের রানার্সআপ দলের বিপক্ষে খেলতে হবে। বাংলাদেশ ধরেই নিচ্ছে অন্য গ্রুপে গত চার আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারত চ্যাম্পিয়ন হবে। এই ভারতকে এড়ানোর জন্য বাংলাদেশ চায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে যেতে। তাহলে ফাইনালে যাওয়া তুলনায় সহজ হবে। এরকম সব হিসাব ঘাম ঝরিয়ে দিচ্ছে সাবিনা, তহুরাদের টিম ম্যানেজমেন্টকে। যে কারণে ভুটানকে নিয়েও একটু ভাবতে হচ্ছে। শুধু জিতলেই হবে না গোল গড়ের হিসাবটাও এগিয়ে রাখতে হবে। যেন ‘এ’ গ্রুপে শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের হিসাবটা সহজ হয়ে যায়। ভুটান বাংলাদেশকে সেই সুযোগ দেবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। কারণ ভুটানের জন্য আজ বাঁচা মরার লড়াই। টিকে থাকতে হলে ভুটানকে জিততেই হবে। ওরা যে মরণ কামড় দেবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ফুটবলার মৌসুমি নেপালে সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন,‘আমরা ভুটানের ম্যাচটা মাথায় রেখে সাফে খেলতে এসেছি। আশাকরি ভুটান ম্যাচেই আমাদের পথ দিক নির্দেশনাটা বেরিয়ে আসবে।’
