রাজধানীতে মাদ্রাসা ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রিন্সিপাল গ্রেফতার

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২১:০১
রাজধানীর উত্তরখানে ৮ম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রিন্সিপ্যাল মুফতি আবুল কাশেম আজাদীকে(৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
 
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি উত্তরখান থানাধীন বড়বাগের মোশারফ হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়ে এবং গোপালগঞ্জের কোটয়ালী পাড়া থানাধীন নয়াকান্দি গ্রামের আব্দুল মান্নান খলিফার ছেলে।
 
উত্তরখান কুড়িপাড়ার ঢাকা আল ইকরা ইসলামী ক্যাডেট মাদ্রাসা ও নজিমুন নেছা মহিলা ক্যাডেট মাদ্রাসায় বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরেরদিন ওই ছাত্রীর পরিবার থানায় অভিযোগ করলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করে উত্তরখান থানা পুলিশ।
 
মাদ্রাসার ওই ছাত্রী জানান, ‘কয়েকদিন পূর্বে মাদ্রাসার টয়লেট পরিষ্কার কথা বলেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রিন্সিপ্যাল মুফতি আবুল কাশেম আজাদী। পরিষ্কার না করায় গত বুধবার সন্ধায় তিনি মাদ্রাসার অফিসকক্ষে ঢেকে নিয়ে দরজা জানালা বন্ধ করে দিয়ে বলেন, আমাকে তোকে বিয়ে করতে হবে, নইলে আমি সবার কাছে তোকে খারাপ মেয়ে বলে রটিয়ে দিব। তারপর হাতমোজা পরে চাকু নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে শরীরে হাত দেয়। তখন চিৎকার করলে সে ছেড়ে দেওয়ার পর মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যাই।’
 
ওই ছাত্রীর মামা জানান, ইতোপূর্বে ঐ মুফতি বরিশালে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা দিয়ে এসেছে উত্তরখানে। আসার পর পরই উক্ত মাদ্রাসার এক মহিলা শিক্ষককে কুপ্রস্তাব করার কারণে সেখান থেকে ঐ শিক্ষিকা চাকরি ছেড়ে চলে যায়। তাছাড়াও ২ বছর পুর্বে অপর আরেক ছাত্রীর সাথে খারাপ আচরণ করলে সে ঐ মাদ্রাসা থেকে চলে যায়।
 
তিনি আরও জানান, আটকের পর তিনি এই বলে হুমকি দেন যে, আমি তিন বছর পর হলেও তো জেল থেকে বের হব, তখন তোদের ৫টি মামলা দিয়ে শিক্ষা দিব।
 
উক্ত মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণীর ছাত্র ছামিউল ইসলাম জানান, ঐ দিন সে উক্ত ছাত্রীর সাথে অফিস কক্ষে ১০/১৫ মিনিট কথা বলেন।
 
মাদ্রাসার মক্তব ও হেফজখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত হাফেজ আবু তৈয়ব মো. হোসেন দাবি করেন, ওই ছাত্রী বাসা থেকে আসা যাওয়া করে লেখাপড়া করত। পরবর্তীতে বাসায় যাওয়ার পথে কোন এক বখাটে ছেলে বিরক্ত করলে ছাত্রীকে ডেকে তিনি (প্রিন্সিপ্যাল) বলেন, মাদ্রাসায় থাকবে, বাসায় যেতে হবে না এবং একটি সাদা কাগজে সই রেখে ছেড়ে দেন।
 
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উত্তরখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ও’সি) ইঊনুছ আলী জানান, মাদ্রাসা ছাত্রীকে বিরক্ত করার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রিন্সিপ্যাল আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং থানায় একটি নারী ও শিশু দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার মামলা নং- ০৩।