ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনে যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আট কোটি ৭০ লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব মানুষের জীবন ব্যবস্থায় ভেঙে গেছে। যুদ্ধের কারণে এসব দেশের মানুষের সাথে সাথে অর্থনীতি ও অবকাঠামো দীর্ঘ মেয়াদের জন্য ধ্বংস হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে সিরিয়ায় এক কোটি ৩৫ লাখ, ইয়েমেনে দুই কোটি ১০ লাখ, লিবিয়ায় ২৪ লাখ ও ইরাকে ৮২ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। ইয়েমেনে এখন দুই কোটি ৪০ লাখ মানুষের ৮০ শতাংশ অর্থাৎ দুই কোটি মানুষই দরিদ্র বলে বিবেচিত। ২০১৫ সালের এপ্রিলের পর যুদ্ধ তীব্র হলে এই সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ইরাকের মানুষের মাথাপিছু আয় ২৮ শতাংশ কমেছে। ইরান ও সৌদি রাজনৈতিক বিরোধ এই অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগের তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার এই দেশগুলোর মানুষ প্রায় পাঁচ বছর আগে মনে করেছিলো গণতান্ত্রিক সরকারের মাধ্যমে তাদের সমতা, সমন্বিত উন্নয়ন ও সবার জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কিন্তু সেটা হয়নি। বরং যুদ্ধ আর সংঘাতে তুরস্ক, লেবানন, জর্ডান এবং মিশরের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে।
জর্ডানে আশ্রয় নেয়া ছয় লাখ ৩০ হাজার সিরীয় শরণার্থীর কারণে দেশটির প্রতি বছর ব্যয় করতে হচ্ছে আড়াই বিলিয়ন ডলার। সিরিয়ার পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশেরও এই ক্ষতি গুণতে হচ্ছে। যুদ্ধ পরবর্তী উন্নয়নে অনেক সময় লাগে। তবে তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর জন্য তুলনামূলক সময় কম লাগে। কিন্তু তেলের দাম কমতে থাকলে সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে মতো দেশগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে বেগ পেতে হবে।
