স্পোর্টস রিপোর্টার
টেস্ট ক্রিকেটকে দর্শকের কাছে আরও আকর্ষণীয় করা এবং দিনের খেলা প্রলম্বিত না করার জন্য অনেকভাবেই চেষ্টা করে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এমসিসির বৈশ্বিক ক্রিকেট কমিটিও বেশ কিছুদিন ধরে আলাপ-আলোচনা করছে, কিভাবে খেলাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়। তারই একটা ধাপ হিসেবে এমসিসির ক্রিকেট কমিটি বেশকিছু সুপারিশ করেছে তাদের সদ্য শেষ হওয়া সভা থেকে। ব্যাঙ্গালুরুতে ৮ ও ৯ তারিখ অনুষ্ঠিত এই সভা থেকে সুপারিশ করা হয়েছে যে, টেস্ট ক্রিকেটে ওভার রেট ঠিক রাখার জন্য ‘ক্লাক টাইমার’ ব্যবহার করা হোক এবং ক্রিকেটের এই ফরম্যাটেও নো বলের জন্য দেওয়া হোক ফ্রি হিটের সুযোগ।
ক্রিকেট কমিটি আগেই সুপারিশ করেছে যে, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ মানসম্পন্ন লাল বল দিয়ে খেলা হবে। আগামী জুলাইতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে শুরু হবে এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। এ ছাড়া ক্রিকেট কমিটি ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসে মেয়েদের ক্রিকেটকে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে। এমসিসির এসব সুপারিশ আইসিসি সভায় উত্থাপিত হবে। সেখানে অনুমোদন পেলে আইনে পরিণত হবে।
এমসিসির টেস্ট জরিপ থেকে জানা যাচ্ছে যে, টেস্টে স্লো ওভার রেট দিনকে দিন একটা জটিল সমস্যা হয়ে উঠছে। বিশেষত যেসব দেশে স্পিনারদের কম খেলানো হয়, সেসব দেশে অনুষ্ঠিত টেস্টে এই সমস্যা প্রকট হচ্ছে। বাড়তি ৩০ মিনিট খেলা চালিয়েও ৯০ ওভার শেষ করা যাচ্ছে না। আইসিসির এক পরিসংখ্যানই বলছে, ২০১৮ সালে ওভার রেট ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ। এটা সামলে নেওয়ার জন্যই টাইমার চালু করার সুপারিশ করছে এমসিসির ক্রিকেট কমিটি।
প্রতি ওভার শেষে ৪৫ সেকেন্ডের ক্ষণ গণনা শুরু হবে এই টাইমারে। নতুন ব্যাটসম্যান উইকেটে এলে ৬০ সেকেন্ডের গণনা হবে। আর বোলার পরিবর্তন হলে ৮০ সেকেন্ডের কাউন্ট ডাউন চলবে। এই ক্ষণ গণনা শূন্য হওয়ার আগেই বোলিং শুরু করতে হবে। কোনো ওভারে এটা করতে ব্যর্থ হলে বোলিং দলের অধিনায়ককে সতর্ক করে দেওয়া হবে। এক ইনিংসে এই কাজ দু’ বার করলে প্রতিপক্ষ ৫ রান পাবে জরিমানা হিসেবে।
প্রতিটা উইকেট পতনের পরও এরকম ক্ষণ গণনা করা হবে। তবে উইকেট পড়ার পর পরের ব্যাটসম্যানকে উইকেটে আসার জন্য কত সময় দেওয়া হবে সেটা ড্রেসিংরুম থেকে উইকেটের দূরত্ব বিবেচনায় প্রতি ম্যাচে আলাদা করে ঠিক করা হবে। এ ছাড়া পানি পানের প্রতি বিরতিতে ক্ষণ গণনা করা হবে।
এ ছাড়া এখন সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে ডিআরএস প্রয়োগে। এমসিসির ক্রিকেট কমিটি বলেছে, আগেই যদি বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়- ব্যাটসম্যান নট আউট, সেটা দ্রুত টিভি আম্পায়ারকে জানিয়ে দেবে সম্প্রচারকারীরা। তাহলে আর স্নিকো, হক আই দেখার দরকার হবে না। তাতে কিছু সময় বাঁচবে।
এমসিসির ক্রিকেট কমিটি সুপারিশ করেছে, টেস্টেও নো বলের জন্য প্রতিপক্ষকে একটা ফ্রি হিট দেওয়া হোক। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এরই মধ্যে এই ফ্রি হিট খুব জনপ্রিয় হয়েছে।
