সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল বলেছেন, আজ সংবিধানের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেশের সর্বোচ্চ বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিচারক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে দলীয়করণের মাধ্যমে। বাংলাদেশে কোনো দিন রাজতন্ত্র কায়েম হতে পারে না। এ দেশের সংবিধানের জন্য অনেক মূল্য দিতে হয়েছে।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যাকারিতা নিশ্চিতের লক্ষে করণীয় শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুজনের নির্বাহী সদস্য ড. শাহদীন মালিক।
ড. কামাল বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে তিনশ আসন পেলেও অযোগ্য কোনো লোককে বিচার বিভাগে নিয়োগ দিতে পারে না। একটি দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে সে দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। বিচার বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে কখনো দলীয়করণ হতে পারে না।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশন, আদালত-বিচার বিভাগ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বিচার বিভাগ সম্পর্কে জনগণের মাঝে নেতিবাচক হতাশা আছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনে নির্বাহী সদস্য ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে বিচার মানা হয় না, বিচারহীনতা, বিচার বঞ্চনা, আইনের শাসন পাওয়ার অধিকার পদে পদে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হাফিজ উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন, সুপ্রিমকোর্টের সাবেক বিচারপতি আবদুল মতিন, সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
