শুক্রবার মেলায় এসেছিলাম। দেখি এত মানুষ এসেছেন, তাদের অধিকাংশের হাতে বই। এটা আমার খুব ভালো লেগেছে। মানুষ বই কিনছেন। আমরা যে আশংকার কথা বলি যে, মানুষ বইয়ের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বই পড়ার সংস্কৃতি জাতি হারিয়ে ফেলছে- বই কেনা দেখলে মনে আশা জাগে। আমাদের আশংকা মিথ্যা প্রমাণিত করে মানুষ বই পড়ুক — এটাই তো সকলের চাওয়া। বইমেলা নিয়ে বাংলা একাডেমির আরেকটি উদ্যোগ খুব ভালো সেটা হচ্ছে শিশুপ্রহরের আয়োজন। ভবিষ্যত্ পাঠকদের জন্য বইমেলা কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগ প্রশংসা করবার মতো। মেলায় এসে ঘুরেফিরে বই কেনার অভ্যাসটা ছোটবেলা থেকে গড়ে উঠছে — এটা আমাকে আশাবাদী করে তোলে। তিনি বলেন, মেলার পরিধি বেড়েছে। বিন্যাস আকর্ষণীয় করার চেষ্টা চলছে। পরিধি বাড়ানোয় মানুষ একটু নিশ্বাস ফেলার সুযোগ পাচ্ছে। বইমেলা তো শুধু বই কেনার মেলা নয় — এটা আমাদের সাংস্কৃতিক মিলনমেলাও। তাই এখানে এসে সময় কাটানোর কিছু ব্যবস্থা থাকা জরুরি। মেলার একটা জিনিস ভালো লাগেনি— সেটা হচ্ছে ধূলা। এটাকে পানি ছিটিয়েই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সেটা কষ্টসাধ্য কোন কাজ নয়। আরেকটি হচ্ছে মেলা মাঠে বিছিয়ে থাকা ইট, ছোট ছোট গর্ত। দেখে মনে হয়, মেলা মাঠের পরিচর্যা করা হয়নি। হাঁটতে গেলে পদে পদে ঠোঁকর খেতে হচ্ছে। এসব অসুবিধা দূর করলে মেলা আরো সুন্দর, ছিমছাম হয়ে উঠবে।
কথা-সাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম মেলায় এসেছিলেন গতকাল। বললেন, এবার মেলা দেখে আমি আনন্দিত। গতবছর হরতালের কারণে মেলা নিয়ে মানুষের মনে সংশয় ছিল, এবার তা নেই। তাছাড়া অভিজিত্ রায় হত্যাকাণ্ডের কারণেও মানুষের মাঝে সংশয় ছিল— নিষ্প্রাণ মেলায় পরিণত হয় কি না। কিন্তু সেসব সংশয় দূর করে মানুষ মেলায় আসছেন। পাঠকের পদচারণায় মেলা পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ ভালো লেগেছে। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ ভালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। প্রত্যাশা করি, এবার কোন অঘটন ঘটবে না।
