‘আর কত বয়স অইলে ভাতা পামু’

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৯, ২২:০৩

 ‘মোগো কপাল পোড়া, বুড়া বয়সে খয়রাত হইরা খাই। কেউ মোগো একটা বয়স্ক ভাতাও দ্যায় না। আর কত বয়স অইলে বয়স্ক ভাতা পামু, আরতো চলতে পারি না, চোহে দেহি না, এ্যাক বেলা খাই আর দুই বেলা না খাইয়্যা  থাহি, মোরা বাইচ্যা আছি না মইর্যা গেছি হেইয়্যারও কেউ খোঁজ নেয় না। মেম্বরের ধারে গেছি হে মোগো কিছুই কয় না। মুইতো চোহে দেহি না, বুড়িডায় দিনে খয়রাত হইর্যা য্যা পায় হেইয়্যা দিয়া মোরা খাই। বুড়িডারও শরীলে বল নাই। সরকার এ্যাতো কিচু দেয়, মোরাতো কিচু পাই না। পোলা ম্যাইয়্যা নাই, মানের জাগায় ড্যারা দিয়া থাহি। কান্না জড়িত কণ্ঠে এ কথাগুলো বললেন বরগুনার তালতলী উপজেলার তুলাতলী গ্রামের অশীতিপর বৃদ্ধ আব্দুল।

জানা গেছে, কদভানুর সাথে বৈবাহিক সূত্রে বাবার ভিটে বরগুনার বালিয়াতলী গ্রাম ছেড়ে তালতলীর তুলাতলী গ্রামে বসবাস আব্দুলের। শ্রমিক আব্দুল গত ৫০ বছর ধরে এখানে আছে। এই দম্পতির কোনো সন্তান নেই। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন। তেমন হাঁটাচলা করতে পারেন না। স্ত্রী কদভানুর সহযোগিতায় চলতে হয় তাকে। ১০ বছর পূর্বে আব্দুলের দুটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। টাকার অভাবে চিকিত্সা করাতে পারেনি। বর্তমানে স্ত্রী কদভানুও অসুস্থ। যেদিন কদভানুর ঝুলিতে চাল পড়ে সেই দিন খাবার জোটে। নইলে না খেয়েই থাকতে হয়। ওই নিঃসন্তান দম্পতি তুলাতলী গ্রামের কালামের পতিত জমিতে জরাজীর্ণ একটি খুপরি ঘর তুলে বসবাস করেন। ঘরের অবস্থা এতই করুণ বৃষ্টি হলেই পানিতে একাকার। আব্দুলের দৃষ্টিশক্তি একদমই নেই, শরীরে নেই তেমন কোনো আচ্ছাদন, চামড়া শরীরের সাথে মিশে গেছে। দিন কাটে বিছানায় শুয়ে। এই বুড়ো বয়সে দু’মুঠো ভাতের জন্য আবদুল ও কদবানুর দুঃখের শেষ নেই। অসুস্থ স্বামীকে ঘরে রেখেই ভিক্ষার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। কোনো সরকারি ভাতা জোটেনি এই অসহায় দম্পতির। এতো বয়সে পায়নি কোনো বয়স্ক ভাতা বা ভিজিডি। দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে ওই ভিক্ষুক দম্পতি। বার্ধক্যের কারণে এখন স্বামী-স্ত্রী দু’জনই শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। দৃষ্টিশক্তি হারানোর কারণে আব্দুল এখন পুরোপুরি অচল। কদবানুর চোখেও পড়েছে ভারী ছানি।

বড় বগী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নজরুল ইসলাম লিটু জানান, গত দুই বছর ধরে ওই দম্পতিকে যথারীতি সহযোগিতা করে আসছি। ওই দম্পতির বয়স্ক ভাতা প্রয়োজন।

তালতলী সমাজসেবা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. হেমায়েত উদ্দিন বলেন, বর্তমানে বয়স্ক ভাতার তালিকার কার্যক্রম চলছে। ওই তালিকাতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপায়ন দাশ শুভ বলেন, খোঁজ নিয়ে ওই দম্পতির সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে।