যে কোনো অপরাধীর ২০০ ধরনের তথ্য, ১০ আঙুলের বায়োমেট্রিক ছাপ এবং দুই চোখের বায়োমেট্রিক ইমেজ নিয়ে তৈরি করা হয়েছে র্যাব-প্রিজন ইনমেট ডাটাবেজ (কারাবন্দীদের তথ্য ভাণ্ডার সংরক্ষণ)। গতকাল রবিবার দুপুরে র্যাব সদর দফতরে ডাটাবেজটি উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার একটি অংশ। যে ডাটাবেজ তৈরি হচ্ছে, তা পর্যায়ক্রমে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন, পাসপোর্ট অধিদফতরের সঙ্গে যুক্ত হবে। তখন অপরাধীদের চিহ্নিত করা খুব সহজ হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অথবা অন্য কেউ যাতে ভুয়া পাসপোর্ট তৈরি করতে না পারেন, এ জন্য তাদের পরিচয়পত্রও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে তা ওয়েবসাইটে দেয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল জিয়াউল আহসানের তত্ত্বাবধানে র্যাব ক্রিমিনাল ডাটাবেজের অনুকরণে এটি তৈরি করা হয়েছে। এটি পরিচালনায় থাকবে র্যাব ও কারাগার কর্তৃপক্ষ। র্যাব ও কারাগার থেকে দক্ষ অপারেটর তৈরি করা, ৬৮টি কারাগারে ওয়ার্ক স্টেশন পৌঁছানো এবং ৬৮টি কারাগারে ফাইবার অপটিকস্ ল্যান নেটওয়ার্কের ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ নিয়ে র্যাব-প্রিজন ইনমেট ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। র্যাব-প্রিজন ইনমেট এনরোলমেন্ট ওয়ার্কস্টেশন ল্যাপটপ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, আইরিশ স্ক্যানার, ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরা, সফটওয়্যার ও একজন দক্ষ অপারেটর নিয়ে গঠিত।
র্যাব সদর দফতরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যে কোনো অপরাধী কারাগারে এনরোলমেন্টের সময় ফিঙ্গার প্রিন্ট ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে অন্যান্য কারাগারে অথবা একই কারাগারে কতবার তিনি আটক হয়েছে তার বিস্তারিত জানা যাবে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী এ ডাটাবেজ থেকে সার্চ করে প্রতি কারাগারে অপরাধীর সংখ্যা সহজে নিরূপণ করা সম্ভব হবে। অপরাধীর কারাগার ট্রান্সফার, জামিন, হাসপাতাল ভিজিট, বিশেষ কোনো তথ্য কারাগার থেকে মোবাইলে মেসেজ আকারে তাত্ক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো যায়। এমনকি অপরাধীর কারাগার ট্রান্সফার বা বিশেষ গমনাগমন কর্তৃপক্ষ চাইলে ডাটাবেজ থেকে মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিকভাবে অপরাধীর নিকট আত্মীয়কে জানানো যাবে।
এই ডাটাবেজ থেকে র্যাবের ক্রিমিনাল ডাটাবেজে তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব এবং অপরাধীর তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র ডাটাবেজের সঙ্গে ম্যাচিং করানো সম্ভব।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিচালক মেজর রুম্মান মাহমুদ জানান, কোনো অপরাধীকে গ্রেফতারের পর তার পরিচয় শনাক্ত ও অতীত অপরাধ রেকর্ড (পিসিআর) জানতেই অনেক সময় চলে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধীরা নিজেদের আড়াল করতে মিথ্যা তথ্যও দিয়ে থাকে। মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে বিলম্বের এটি অন্যতম একটি বড় কারণ। আবার দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীরা কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে ফের অপরাধ করে। বেশিরভাগ সময় তারা স্থান পরিবর্তন করায় তাদের চিহ্নিত করা দুষ্কর হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, সম্পূর্ণ ডিজিটাল ফরম্যাটে প্রস্তুত এ তথ্যভাণ্ডার থেকে কম্পিউটারের মাধ্যমে মুহূর্তে একজন অপরাধীর বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে এ তথ্যভাণ্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর বাইরে ছবি, অতীত অপরাধ সংঘটনের সংখ্যা, অপরাধের ধরন, দণ্ড সংক্রান্ত তথ্যও সন্নিবেশ করা হয়েছে। এসব তথ্যের সঙ্গে অপরাধীর নাম, ঠিকানা, পেশা ইত্যাদি ব্যক্তিগত বিস্তারিত তথ্য রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাবের মহাপরিচালক, কারা মহাপরিচালক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
