ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কাহালগাঁও রঙেরধারা গ্রামের কৃষক রমজান আলীর বাড়িতে বিদ্যুত্ সংযোগ না থাকার পরও পল্লী বিদ্যুত্ অফিস থেকে ‘ভৌতিক বিদ্যুত্’ বিল পাঠানো হচ্ছে তার নামে। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১, ফুলবাড়িয়া জোনাল অফিস থেকে গত দুই মাস যাবত্ তার নামে বিদ্যুত্ বিলের গ্রাহক কপি পাঠাচ্ছেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১০১৩৭২২৮৪০৪ নং বিদ্যুত্ বিলের গ্রাহক কপিতে দেখা যায়, এরিয়া কোড- ৫০৫০১, হিসাব নং-৬১০-১৭০২, ট্যারিফ নং- এলটি-এ (আবসিক), গ্রাহক কাহালগাঁও রঙেরধারা গ্রামের মো. রমজান আলী। জানুয়ারি মাসের বকেয়াসহ ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যুত্ বিল পাঠানো হয়েছে ৩৬৫ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যুত্ ব্যবহার দেখানো হয়েছে ২০ ইউনিট।
রবিবার বিকালে এলাকাবাসী জানায়, রঙেরধারা গ্রামের জয়নুদ্দিনের পুত্র রমজান আলী গত এক বছর পূর্বে নিজ বাড়িতে পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ নেওয়ার জন্য স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের দালাল রাসেলের খপ্পরে পরেন। দুই হাজার টাকাসহ বাড়ির জমির দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সকল কাগজপত্র নেয় আবেদন করার জন্য। বিদ্যুতের আবেদন করা হয়েছে বলে তাকে জানিয়েছেন এলাকায় বিদ্যুতের দালাল নামে পরিচিত সেই রাসেল।
পল্লী বিদ্যুত্ অফিস থেকে গত এক বছরেও আবেদনের তদন্ত, ঘর ওয়ারিং করা, মিটার লাগানো ও বিদ্যুত্ সংযোগ দেওয়া হয়নি। অথচ পল্লী বিদ্যুত্ অফিস থেকে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস যাবত্ বিদ্যুত্ বিল পাঠানো হচ্ছে তার নামে।
রাসেল মিয়া বলেন, অফিসারদের বহু অনুরোধ করে আবেদনটি মঞ্জুর করিয়েছি। খরচ বাবদ আমাকে ১ হাজার টাকা দিয়েছিল। এখনো বিদ্যুত্ সংযোগ দেওয়া হয়নি, অনুমানের ওপর মিটার রিডার হয়তো বিল করেছে মনে হয়। সে কেন টাকা নিবে জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি।
কৃষক রমজান আলী বলেন, দুই হাজার টাকার বিনিময়ে রাসেলের মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুত্ অফিসে বিদ্যুতের জন্য আবেদন করেছিলাম কয়েক মাস আগে। ঘর ওয়ারিং করা হয়নি, বিদ্যুতের মিটার লাগানো হয়নি, সংযোগও দেওয়া হয়নি। অথচ দু’মাস যাবত্ বিদ্যুত্ বিলের কপি আসছে আমার নামে। এটা কোনো কথা হলো?
পল্লী বিদ্যুতের মিটার রিডার জাহিদ হাসান জানান, বিষয়টি ভুলে হয়েছে। সমাধান করে দিচ্ছি কিছু লিখেন না।
পল্লী বিদ্যুত্ ফুলবাড়িয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার অনিতা বর্ধন বলেন, বিদ্যুত্ সংযোগ না থাকলে বিদ্যুতের বিল যাবে এরকম হওয়ার কথা না, বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে, যদি এরকম হয়েই থাকে তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
