আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানি দূতাবাস বাংলাদেশবিরোধী অপকর্মে লিপ্ত। বাংলাদেশের জনগণ এই নরপশুদের সাথে সম্পর্ক রাখতে চায় না। তাই আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী তাদের সাথে যেটুকু সম্পর্ক না রাখলেই নয় সেটুকু সম্পর্কই রয়েছে।’
সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ মিলনায়তনে ‘বীরাঙ্গনার আত্মকথন’ প্রামাণ্য গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ২০ বীরাঙ্গনার আত্মকথা নিয়ে প্রকাশিত একাত্তর প্রকাশনীর এই গ্রন্থটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো শিল্পী বেগম কর্তৃক সংকলিত ও সম্পাদিত হয়েছে। প্রকাশিত গ্রন্থটির মুখবন্ধ লিখেছেন এমিরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এবং প্রাথমিক পর্যালোচনা করেছেন এমিরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
দালাল আইন বন্ধ করে রাজাকারদের রক্ষা করা, গোলাম আজমকে নাগরিকত্ব দেয়া, জামায়াতের রাজনীতি বৈধ করা ও বীরাঙ্গনাদের পুণর্বাসন কেন্দ্র বন্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার সমালোচনা করে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, যাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই ছিল তিনি তাদের পুনর্বাসিত করেছেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে উনি স্বাধীনতাবিরোধী ও পাকিস্তানি ভাবধারায় বিশ্বাসী। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ছিলেন না, বিশ্বাসঘাতক ছিলেন।
হানিফ বলেন, যুদ্ধ চলাকালে জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের কর্নেল আসলামের সাথে চিঠি আদান-প্রদান করতেন। আসলাম তাকে লিখেছিলেন, তোমার কাজ ভাল চলছে, চালিয়ে যাও। কখন একজন শত্রু এভাবে চিঠি লিখে? আসলে জিয়া ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াও পাকিস্তানি ক্যান্টেনমেন্টে যুদ্ধের সময় আরামে দিন কাটিয়েছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন না, তাই ৪৪ বছর পর তিনি শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এটি মুখ ফসকে বলেননি, সুদুরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ। এ সময় তিনি গত ৪৪ বছরে বীরাঙ্গনারা অবহেলিত ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, মফিদুল হক, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, গ্রন্থকার অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম, অধ্যাপক মফিজুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তী হায়দার, ঢাবি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি রকীব উদ্দীন আহমেদ প্রমুখ
মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপ আ আ মস আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাঙালি জাতির ওপর বর্বর গণহত্যা চালায় এবং অসংখ্য নারীকে নির্যাতন করে। হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা এখনও সেই নির্যাতনের চিহ্ন বহন করে চলেছেন। বাংলাদেশে গণহত্যা ও নির্যাতনের কথা অস্বীকার করায় কঠোর ভাষায় পাকিস্তানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একাত্তরের বাংলাদেশে গণহত্যা ও নির্যাতনের কথা পাকিস্তানের অস্বীকার করা এক বর্বরতারই নিদর্শন। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
