ভূমিতে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৯, ২২:২২

নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে ভূমিতে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কৃষির ১৭টি ধাপে নারী সরাসরি কাজ করলেও কৃষিতে নারীর মালিকানা আছে মাত্র ১৮ ভাগ। তাও আবার নামমাত্র, বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্ব নেই। এছাড়া মজুরির ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য এখনো বিদ্যমান। এসব বিষয়ে নারীর অধিকার আদায়ে নারী-পুরুষের সমন্বয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। নইলে এ থেকে নারীর মুক্তি আসবে না। কৃষিতে নারীর অধিকার ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে পারলেই তাদের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে।

গতকাল বুধবার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নারীর ভূমি অধিকার, কৃষিতে অংশগ্রহণ এবং নারীর নিরাপত্তা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এএলআরডি এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে সভা-প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন এএলআরডি’র চেয়ারপার্সন ও নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির। প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, রাঙামাটির চাকমা সার্কেল রানী ইয়েন ইয়েন, রিইব-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মেঘলা গুহঠাকুরতা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেন, সমাজের অর্ধেকেরও বেশি নারী সমাজ উন্নয়নে কাজ করে। কিন্তু, কতটুকুই বা তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পেরেছে। নারীরা অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে এগিয়ে আছে। তারপরও সমাজে নারীরা বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা নারীদের সকল অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। নারীদের কৃষিখাতে অংশগ্রহণ বিষয়ে তিনি বলেন, নারীদের এ কাজের স্বীকৃতি থাকা উচিত। স্বীকৃতি না থাকায় নারী কৃষকরা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। নারীদের জমি না থাকায়, ভূমিহীনদের কাতারেই রয়ে যাচ্ছে। নারীদের আলাদাভাবে বিবেচনা করে বিশেষ করে খাস জমি তাদের কল্যাণে দেওয়া উচিত।

শামসুল হুদা বলেন, নারীরাই এক সময় কৃষিতে প্রায় শতভাগ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে পুরুষরা বিভিন্ন কাজের সন্ধানে কৃষি জমিতে চাষ ছেড়ে দিচ্ছে। ফলে আবারও কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। কিন্তু, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীর সেই অধিকার বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছে না। নারীরা কৃষিতে শ্রম দিলেও ভূমির মালিক ঠিকই পুরুষদেরই হাতে থেকে যাচ্ছে। কৃষিতে নারীর অধিকার ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে পারলেই নারীদের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে। পারিবারিক আইন সংশোধন করে ভূমিতে নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করা উচিত।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন এএলআরডি’র উপ-পরিচালক রওশন জাহান মনি। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন চম্পা চাকমা, মনোয়ারা বেগম, লিপি ম্রং, মাকসুদা বেগম, মিথিলা চাকমা, চৈতি রিসিল প্রমুখ। তারা নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে ভূমিতে যথাযথ অধিকার দাবি করেন।

সভাপতির বক্তব্যে খুশী কবির বলেন, নারীদের ক্ষেত্রে শুধু সমঅধিকারই নয়, বিশেষ বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। নারীদের এগিয়ে নিয়ে যেতে তাদের সমন্বয়ে প্রকল্প গ্রহণ ও যথাসময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। সব ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী-শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না। কৃষিক্ষেত্রে নারীদের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।