নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে দাগ হ্যামারশেল্ড পার্কে এক মাসের জন্য স্থাপিত করা হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ভাস্কর্য। শিল্পী খুরশীদ সেলিমের নকশায় এবং শিল্পী মৃনাল হকের তৈরি বাংলা ভাষার এই ভাস্কর্যটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে ভাস্কর্য পরিদর্শন করেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং আইন, বিচার ও সংসদ সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাংসদ কাজী ফিরোজ রশিদ ও সাংসদ মোহাম্মদ এনামুর রহমান।
পরিদর্শন শেষে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, 'আমাদের বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি ছিল ভাষা আন্দোলন। এটি আমাদের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদও বটে। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে চিন্তা করা যায় না।'
তিনি বলেন, 'জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর চেষ্টা করা হয়েছিল তেলে জলে মিশিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তানকরণের জন্য। এখনো আমরা পাকিস্তানি প্রতিধ্বনি শুনতে পাই।'
তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'খালেদা জিয়া এখনো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক করার চেষ্টা করছেন। মহানায়কের পাশে খলনায়ক বানিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।'
সুরঞ্জিত বলেন, 'যে রকম স্লোগান রয়েছে- ইসলাম জিন্দা হোতাহে সেইভাবে বাঙালি জিন্দা রয়েছে, তারা জেগেছে।'
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বেই বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। সেই ভাষার ঐতিহ্যকে আপনারা প্রবাসে নিয়ে এসেছেন। আজকে জাতিসংঘের সামনে সেই ভাস্কর্য দেখতে পাচ্ছি। এর মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্ম উদ্বুদ্ধ হবে, যারা একদিন জাতিসংঘে বাংলায় কথা বলবে।' তিনি আয়োজকদের ভাস্কর্য স্থাপনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, 'আমাদের অর্জন হচ্ছে দুটো। একটি হচ্ছে ভাষা আন্দোলন আর অন্যটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। এই দুটোকে নিয়েই আমরা বেঁচে আছি এবং বেঁচে থাকবো। এই প্রবাসে ভাষার ভাস্কর্য স্থাপন করে আপনারা যে মহান কীর্তি স্থাপন করলেন এজন্য আপনাদের অভিনন্দন।'
সাংসদ এনামুর রহমান বলেন, 'জাতিসংঘের সামনে এই ভাস্কর্য স্থাপন করে আপনারা বাংলাদেশ এবং বাংলা ভাষাকে সম্মানিত করেছেন।'
মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের কর্ণধার বিশ্ববিজৎ সাহার স্বাগত বক্তব্যের পর এবং বাঙালি চেতনা মঞ্চের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশার পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, ভাস্কর্য শিল্পী খুরশীদ সেলিম, রমেশ নাথ, আব্দুল হামিদ প্রমুখ।
