বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। শনিবার পয়লা ফাল্গুন, ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। আর তার আগমনী বার্তা বৃহস্পতিবার মেলার ১১তম দিন থেকেই পাঠক-দর্শনার্থীর সাজ-পোশাকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তবে বৃক্ষরাজি আরো আগে থেকেই নিজেদেরকে নতুন পাতায় সাজিয়ে নিয়েছে। বসন্তের এ আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে মেলায় বাড়ছে পাঠক-দর্শনার্থীর সংখ্যা। বাড়ছে বিক্রিও।
ঐতিহ্য প্রকাশনীর নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন কাজল এ প্রসঙ্গে বলেন, পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে লোক সমাগম বেড়ে চলেছে। প্রতিবছর এ সময়টায় পাঠক-দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ে এবং বেচাকেনাও হয় ভালো। আশা করি, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।
তিনি বলেন, এবার পয়লা ফাল্গুন ও ভালবাসা দিবস শনি ও রোববার হলেও মেলা জমে উঠবে ছুটির দিনের মতই। বাসন্তী রঙের পোশাক আর গাঁদা ফুলের সাজে লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠবে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। আশা করছি, এ দু’দিন মেলায় সবচেয়ে বেশি বই বিক্রি হবে।
নতুন বই
বৃহস্পতিবার মেলায় নতুন বই এসেছে ১৩১টি এবং ৬টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। আজকের নতুন বইয়ের মধ্যে গল্প ২৮টি, উপন্যাস ২০টি, প্রবন্ধ ১৪টি ও কবিতা ২৪টি উল্লেখযোগ্য। মেলায় আজ গ্রন্থকানন এনেছে কামাল লোহানীর ‘এদেশ আমার গর্ব’। ঐতিহ্য এনেছে মির্জা আজিজুল ইসলামের ‘ম্যাক্রো ইকোনোমিক্স ম্যানেজমেন্ট ইন বাংলাদেশ’, রাফিক হারিরির ‘ফুলবানু ও অন্যান্য গল্প ও তাপস রায়ের ‘রসিক রবীন্দ্রনাথ’।
শিশু প্রহর
শিশুদের অভিভাবকসহ স্বাচ্ছন্দ্যে বই কেনার সুবিধার্থে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ১২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বাংলা একাডেমি শিশুপ্রহর ঘোষণা করেছে। শিশুপ্রহরের সময়কাল সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত। গত শুক্র ও শনিবারও একাডেমি ঘোষিত শিশুপ্রহর ছিল।
শিশুদের জন্য শুক্রবার শিশুপ্রহরে সিসিমপুরের অনুষ্ঠানে থাকবে নতুন চমক। টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিশুতোষ শিক্ষামূলক এ অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোমলমতি সোনামনিদের জন্য মেলা প্রাঙ্গণে ‘নতুন এক ভুবন’ সাজানো হচ্ছে।
দুই ভাগে এ অনুষ্ঠান হবে। সোহরাওয়ার্দীর শিশুচত্বরে সাধারণ অনুষ্ঠানমালা আর বাংলা একাডেমির মিলনায়তনে থাকবে বিশেষ আয়োজন।
শুক্রবার যথারীতি শিশুপ্রহর (বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা)। শিশুদের জন্য নির্ধারিত এই সময়ে আনন্দের মাত্রা আরেকটু বাড়িয়ে দিতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে সিসিমপুর কর্তৃপক্ষ।
মিলনায়তনে থাকবে মেলায় সিসিমপুরের প্রকাশিত বইগুলোর মোড়ক উন্মোচন, লাইভ পাপেট শো এবং তাদের সঙ্গে বাচ্চাদের কথপোকথন, টুকটুকি, হালুম ও ইকরিসহ সিসিমপুরের ছয়টি চরিত্রের বাস্তব উপস্থিতি, সঙ্গে আরও নানা আয়োজন। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে আরটিভিতে। সে সকল শিশু আসতে পারবে না, তারা ঘরে বসেই উপভোগ করতে পারবে পুরো আয়োজন। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
মূলমঞ্চ
বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমির হীরকজয়ন্তী: অমর একুশে গ্রন্থমেলা অতীত থেকে বর্তমান শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমদ। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক বদিউদ্দিন নাজির। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর, ড. জালাল আহমেদ এবং খান মাহবুব।
প্রাবন্ধিক বলেন, অমর একুশে গ্রন্থমেলা বর্তমানে দেশের একটি প্রধান সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। দেশের প্রকাশক ও পাঠকদের জন্য বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলা হয়ে ওঠেছে মহামিলনতীর্থ। বলতে গেলে বাংলাদেশের সৃজনশীল গ্রন্থের প্রকাশনাই এখন অমর একুশে গ্রন্থমেলা ভিত্তিক হয়ে উঠেছে।
সভাপতির বক্তব্যে মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলা আজ এক সাংস্কৃতিক মহোৎসবে পরিণত হয়েছে। অতীতে ফিরে তাকানোর পাশাপাশি বর্তমানের অভিজ্ঞতায় ভবিষ্যতের দিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে, যেন একুশে গ্রন্থমেলাকে যথার্থই জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানো যায়।
