দীর্ঘ ১০/১৫ বছর যাবত্ ওয়াসার পানি পাচ্ছে না চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকার দেড় হাজারের বেশি গ্রাহক। তার মধ্যে এসব গ্রাহককে প্রতিমাসে কয়েক হাজার টাকা করে বিল ধরিয়ে দিচ্ছে ওয়াসা। পানি না পাওয়ায় এসব ভুয়া বিলের টাকাও পরিশোধ করছে না সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা। ফলে ওয়াসার হিসাবের খাতায় পুঞ্জীভূত বকেয়া বিলের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।
পানিবিহীন ভুয়া বিলের অভিযোগ নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য গ্রাহক ওয়াসার কর্মকর্তাদের কাছে ভিড় করছে। কেউ কেউ সমাধান পেলেও অনেকেই দিনের পর দিন ওয়াসা অফিসে শুধু ঘুরাঘুরিই করছেন। চকবাজার হাজী আরবান আলী রোডের বাসিন্দা মো. সোলায়মান বলেন, ‘১৫ বছর যাবত্ সংযোগ থাকলেও ওয়াসার পানি পাচ্ছি না। তখন আমাদের ৫০০/৬০০ টাকা হারে বিল প্রদান করতেন। গত ২ বছর যাবত্ ভুয়া বিলের বোঝা আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একদিকে পানি পাচ্ছি না, তার মধ্যে প্রত্যেক গ্রাহককে ৪ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিলের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা মহল্লার কমিটির পক্ষ থেকে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে দেখা করে চিঠি দিয়েছি। তারপরও ভুয়া বিল থেকে রেহাই পাচ্ছি না। ওয়াসার এমডি মিনিমাম বিল করার আশ্বাস দিলেও তাতে লাভ হচ্ছে না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘাসিয়াপাড়া এলাকার এক গ্রাহক ভুয়া বিলের অভিযোগ নিয়ে হাজির হয়েছেন ওয়াসার রাজস্ব বিভাগের এক কর্মকর্তার কাছে। তিনি অভিযোগ করেন সংযোগ থাকলেও গত ১০ বছর যাবত্ পানি পাচ্ছেন না। প্রথম পর্যায়ে ৩৩০ টাকা হারে মিনিমাম বিল দিতেন। পরে হঠাত্ বিল প্রদান বন্ধ করে দেয় ওয়াসা। বিল বন্ধ রাখার বিষয়ে জানতে গেলে তারপর থেকে প্রতি মাসে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা হারে লক্ষাধিক টাকার একটি বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাসায় সংযোগের মাধ্যমে পানি পাচ্ছি কিনা ওয়াসার কর্মকর্তারা দুই দফায় তদন্ত করে পানি না পাওয়ার সত্যতা পেয়েছেন। এখন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ভুয়া বিলটি সংশোধন করে আগের মতো মাসে ৩৩০ টাকা হারে পরিশোধের জন্য বলেছেন।’
ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) মো.নুরুল আলম চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, প্রায় ২২ হাজার গ্রাহকের কাছে বকেয়া বিল রয়েছে। যেসব গ্রাহকের মিটার নেই বা নষ্ট তাদের নতুন মিটার দেওয়া হচ্ছে। বকেয়া বিলের মধ্যে যেসব গ্রাহক দীর্ঘদিন যাবত্ পানি পাচ্ছে না অথচ গড়ে বিল দেওয়া হয়েছে তাদের বিল সংশোধন করে মিনিমাম বিল আদায়ের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’
