ঠাকুরগাঁওয়ে পোলট্রি শিল্পে ধস নেমেছে। বন্ধ হয়ে গেছে জেলার বেশির ভাগ পোলট্রি খামার। বেকার হয়ে পড়েছে এ শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত শত শত শ্রমিক-কর্মচারী। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারের যথাযথ নজরদারি না থাকায় সম্ভাবনাময় শিল্পটি ধ্বংস হতে বসেছে।
সদর উপজেলার খালেকুজ্জামান সুমন, মনির হোসেন, স্বপনসহ অনেকে জানান, তাদের লোকসান হওয়ার জন্য দায়ী রোগবালাই, মুরগি বাচ্চা, খাদ্য ও উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি। চার বছর আগে একটি লেয়ার মুরগির বাচ্চার দাম ছিল ১৫-১৬ টাকা। বর্তমানে দাম ৮০-৮৫ টাকা হয়েছে। একইভাবে ১৮-২০ টাকার বয়লার বাচ্চা ৭০-৭৫ টাকা ও সোনালী জাতের বাচ্চা ১৫ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ৪৫ টাকা হয়েছে।
তা ছাড়া ১৫ টাকা কেজির বেডিফিট ৩৮-৪০ টাকা, পোলট্রি খাদ্য তৈরির উপকরণ ভূট্টা ১৩ টাকা থেকে বেড়ে ২৭ টাকা, সয়াবিন প্রতি কেজি ২৬ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা ও মিটবোন মিল ৩২ টাকা থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্ষুদ্র পুঁজির পোলট্রি খামারি আব্দুল হান্নান হানু, মমিনুর রহমানসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা না থাকায় ভারতীয় ডিম, বাচ্চা ও ওষুধে এ দেশের বাজার দখল করে রেখেছে। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে লোকসানের ভার কাঁধে নিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোলট্রি শিল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
জেলা পোলট্রি খামার মালিক সমিতির নেতা মহেবুল্লাহ চৌধুরী আবু নূর জানান, এ জেলার প্রায় ৮০ ভাগ খামার বন্ধ হয়ে গেছে। আর বাকি ২০ ভাগ মরার পথে। বেকার যুবকরা ঋণ নিয়ে খামার করেছিল। হঠাৎ করে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তা বন্ধ হয়ে গেছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, খাদ্য ও ওষুধের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুদ্র খামারিরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। ফলে বর্তমানে এ জেলার অনেকেই খামার বন্ধ করে দিতে চাইলেও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মচারীরা মাঠ পর্যায় যথারীতি তদারকি করে ও পরামর্শ দিয়ে খামারিদের লাভবান করার চেষ্টা করছেন।
