পাওয়ারলুমের যুগে হ্যান্ডলুম প্রায় হারিয়ে যেতে যেতেও টিকে থাকার অবলম্বন খুঁজে পেয়েছে। আড়ংসহ দেশের হস্তশিল্প বিক্রয়কারী বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আড়াইহাজারের তাঁতীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ঢাকাসহ সারাদেশে আড়ং এর শো-রুমগুলোতে স্থান পাচ্ছে আড়াইহাজারের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের থ্রী-পিস। বিলুপ্ত হতে চলা হ্যান্ডলুম এর কারিগররা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় তাদের তৈরি থ্রী-পিস, শাড়ি, লুঙ্গি ও গামছা বিপণনের নতুন উত্স খুঁজতে গিয়ে আড়ং-এর সন্ধান পান। আড়ং ছাড়া আরও কিছু সংস্থাও আড়াইহাজারের থ্রী-পিস মার্কেটিং করছে। তবে এর মূল অংশ যায় আড়ংয়ে। আড়ং এর মতো বড় সংস্থার সহযোগিতা পেয়ে অনেক তাঁতীই নিজেদের পায়ের তলে মাটি ফিরে পেয়েছেন। হস্তশিল্পের নতুন বাজার তৈরি হওয়ায় স্থানীয় তাঁতীরা আশার আলো দেখছেন।
তাঁতীদের অনেকেই বলেন, এই মুহূর্তে কিছুটা সরকারি সহযোগিতা পেলে তাঁতী পরিবারগুলোর সামনে খুলে যাবে অপার সম্ভাবনার দুয়ার। বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচবে আড়াইহাজারের ঐতিহ্যবাহী হস্তচালিত তাঁত শিল্প। গত একপক্ষকালব্যাপী তাঁত প্রধান এলাকাগুলো ঘুরে এ সমস্ত তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, একসময় আড়াইহাজারে ঘরে ঘরে তাঁত ছিল। তাঁতের খটখট শব্দে আশপাশের মানুষের ঘুম ভাঙতো। তাঁতীরা তাদের হস্তচালিত তাঁতকল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় পোশাক তৈরি করতো। আড়াইহাজারে প্রধানত থ্রি-পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি, গামছা, তোয়ালেসহ বিভিন্ন ধরনের তাঁতের পোশাক তৈরি হয়। স্বাধীনতার আগে ও স্বাধীনতার পর পর এ অঞ্চলের তাঁতের কাপড়ের বেশ চাহিদা ছিল। পরে অটোমেটিক মেশিনে তৈরি কাপড়ের কাছে হস্তচালিত তাঁতে বোনা কাপড় মার খেয়ে যায়। তবে বর্তমানে আড়াইহাজারে তাঁতশিল্পের সেই হারানো দিন আবার ফিরে আসতে চলেছে বলে মনে করছেন তাঁতীরা। তাদের তাঁতের তৈরি কাপড়, বিশেষ করে থ্রি-পিসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আতাদী গ্রামের মোর্শেদ জানান, আমাদের কারখানার তৈরি থ্রি-পিসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ঢাকার বিখ্যাত আড়ংয়ে যাচ্ছে আমাদের তৈরি থ্রি-পিস।
উপজেলার সুলতানসাদী, নারান্দী, হাইজাদী, বিশনন্দী, দড়ি বিশনন্দী, সদাসদী, গহরদী, জোগারদিয়া, আতাদী, ভৈরবদী, সিঙ্গারপুর ও লতুব্দীসহ বিভিন্ন গ্রামের তাঁতীরা থ্রি-পিস, গামছা, লুঙ্গি, শাড়ি তৈরি করছে। বর্তমানে থ্রি-পিসের কদর বেশি থাকলেও অন্যান্য কাপড়ের চাহিদাও বাড়বে বলে আশাবাদী তাঁতীরা।
