‘আমার লতার একটি মুকুল ভুলিয়া তুলিয়া রেখো’

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২৩:৪৯
হাতে হাত ধরে ঘুরেফিরে আর প্রিয়জনকে আরেকবার ‘ভালোবাসি’ বলেই দিনটি পার করেছে প্রেমিকযুগল। ‘ভালোবাসি, আমি তোমায় ভালোবাসি’ হূদয় নিংড়ানো আবেগ আর অনুভূতি দিয়ে প্রিয় মানুষটিকে গতকাল বুঝিয়ে দিয়েছেন তাদের ভালোবাসার গভীরতা। ভালোবাসার মানুষের মনের মতো সাজে নিজেকে সাজিয়েছেন তারা। আর ভোলোবাসার রং লাল বলে বেশিরভাগ যুগলই নিজেদেরকে সাজিয়েছেন সেই লালে লালে। তরুণীরা পরেছিলেন লাল গোলাপি রংয়ের শাড়ি। মাথায় ফুলের টায়রা, হাতে চুড়ি। আর তরুণরা পরেছিলেন লাল পাঞ্জবি আর ফতুয়া। গতকাল সকাল থেকেই প্রেমিক যুগলদের দেখা মিলেছে শহরের নানা জায়গায়। তবে ভিড়টা বেশি ছিল টিএসসি, শাহবাগ, শহীদ মিনার, ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবার এলাকায়। আর সবেচেয়ে বেশি ভিড়টা ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। গতকাল সকালে শাহবাগের ফুলের দোকানে গিয়ে দেখা যায় সেখানে ফুলের টায়রা আর গোলাপ বিক্রির ধুম পড়েছে। প্রিয় মানুষকে তাত্ক্ষণিক ফুল উপহার দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছেন তার ভালোবাসার কথা। তারপর শুধু নিজেদের মতো করে যেখানে খুশি সেখানে হারিয়ে যাওয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চারুকলা আর সবশেষে বইমেলায় প্রেমিক যুগলরা ঘুরে বেড়িয়েছেন মনের আনন্দে। দু’জনে দু’জনের হাত ধরে ঘুরেছেন প্রিয় শহরে। একসঙ্গে তুলেছেন সেলফি। অনেকে আবার বিভিন্ন উদ্যান পার্কে গাছের ছায়ায় বসে মন খুলে কথা বলেছেন। কেই কেউ একসঙ্গে সেরে নিয়েছেন দুপুরের আহার। যে কারণে বিভিন্ন ফাস্টফুড, কফিশপ ও রেস্তোরাঁয় যুগলদের ভিড় ছিল। দুপুরের খাবার শেষ করে আবার বেরিয়ে পড়েছে ঘুরতে। অনেক যুগলকে দেখা গেছে রিকশায় ঘুরে বেড়াতে।
 

রাজধানীর নানা শপিং স্টোরের ফুড কোড যেমন যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটির ফুড কোডগুলোতেও প্রেমিক যুগলদের দখলে। অনেকে আবার একসঙ্গে সিনেমা দেখেছেন। কেউ কেউ আবার লং ড্রাইভে গেছেন। অনেকে বেছে নিয়েছেন ঘরের কোণের নির্জনতাকে। ভালোবাসার অভিসারে মেতেছেন দুজনে। কেউ কেউ শহর ছাড়িয়ে চলে গেছেন বিভিন্ন রিসোর্ট বা প্রকৃতির কাছাকাছি। প্রকৃতির রংয়ের সঙ্গে মাখিয়ে নিয়েছেন ভালোবাসা। নদীর তীরে বসে উপভোগ করেছেন ঝিরিঝিরি বাতাস। হাত বুলিয়ে দিয়েছেন প্রেমিকার চুলে। এভাবেই ভালোবাসা ভালোবাসায় কেটেছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। দিন শেষে বাড়ি ফিরতে ফিরতে গেয়ে উঠেছেন ‘একি সোনার আলোয় জীবন ভরিয়ে দিলে।’