জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন এসেছিলেন বইমেলায়। বললেন, এবারের মেলা চমত্কার। অনন্যার স্টলে বসে বইয়ে অটোগ্রাফ দিলেন হাসিমুখে। এখন তো নতুন আবদার শুরু হয়েছে পাঠকদের। তা হচ্ছে সেলফি তোলা। সেই আবদারও মেটালেন অম্লান বদনে। অনন্যার স্টলে প্রিয় লেখককে ঘিরে ভিড় লেগেছিল পুরোটা সময়। ভক্তদের ভিড়ের ফাঁকে টুকরো টুকরো কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। বললেন, এত বড় পরিসর, বইমেলা যেন আন্তর্জাতিক মেলার রূপ পেয়েছে। এর কৃতিত্ব পুরোটাই সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রকাশকরা। যুক্ত হয়ে পুরো মেলা প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
অনেকে বলে বইয়ের বিক্রি কমে গেছে; কিন্তু আমি বলি- বিক্রি কমেনি। পাঠকরা আসছেন বই কিনছেন তারা। বইয়ের বিষয় বৈচিত্র্য বেড়েছে। নানা ধরনের বই প্রকাশ যেমন পাচ্ছে তেমনি বিক্রিও হচ্ছে। এত যে বই বের হচ্ছে সেসব বইয়ের কিছু কিছু তো বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রকাশনা পিছিয়ে যাচ্ছে না।
তবে স্টোরি টেলার কমে যাচ্ছে না, নতুন কথাসাহিত্যিক খুব একটা দেখা পাওয়া যাচ্ছে না- এ কথার উত্তরে একটু চুপ করে রইলেন। অটোগ্রাফ দেয়া থামিয়ে বললেন, আনিসুল হকের পরেও বেশ কিছু স্টোরি টেলার এসেছেন। যারা ভালো লিখছেন। এদের মধ্যে অনেকেই উঠে আসবে। এরপরে বললেন, বই প্রকাশ পেলেই তো বিক্রি হবে না। লেখককে পাঠকের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। অমুক লেখকের বই পড়তে ভালো লাগে- এই বিশ্বাস অর্জন করতে হয়। চটকদার বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে এই বিশ্বাস অর্জন করা সম্ভব নয়। মনের আনন্দে অনেকেই লেখেন, বই প্রকাশ করেন; কিন্তু সেসব বই পাঠকের কাছে সমাদর পায় না। কারণ মনের আনন্দে লিখলেই চলে না। নিজের পড়াশোনা, প্রস্তুতিটা প্রয়োজন। নিজের প্রস্তুতিতে গলদ থাকলে কিছুই হবে না।
এবারের মেলায় ইমদাদুল হক মিলনের অনন্যার স্টলে চলে এসেছে ‘রেশমি’ ও ‘ছোট্ট সবুজ মানুষ’। অনন্যায় দুয়েক দিনের মধ্যেই চলে আসবে ‘জিন্দাবাজার’। এছাড়া লেখকের আলোঘর প্রকাশনী থেকে বের হয়েছে ‘শাওন ও তার বন্ধুরা’ এবং পুঁথিনিলয় থেকে প্রকাশ পেয়েছে ‘মেঘবালিকা’।
