গত আট বছরে (২০০৭-২০১৫) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৪৩৪ জন নারী ও কন্যাশিশু শারীরিক ও যৌন নিযার্তনের শিকার হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার একটিরও সুষ্ঠু বিচার হওয়ার নজির নেই।
মঙ্গলবার বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর নারীদের সামগ্রিক পরিস্থিতি ২০১৫’বিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীর ডেইলি স্টার কার্যালয়ের সেমিনার হলে এ প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করেন এবং প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। দাতাসংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় কাপেং ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতবছর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর ১৪টি ধর্ষণ, ১২টি গণধর্ষণ, ১৬টি ধর্ষণের চেষ্টাসহ ৬৯টি ঘটনা ঘটেছে। ভূমি বিরোধ ও সাম্প্রদায়িক আগ্রাসনের কারণে বেশির ভাগ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাঙালি পুরুষেরাই এ জন্য দায়ী। তবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পুরুষেরাও এসব অপরাধ করেছে। অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটির সারাংশ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পার্বতী রায়। তিনি বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সদস্য।
সেমিনারে বলা হয়, সংবিধানে দেশের সকল নাগরিকের জন্য বৈষম্যহীনতা নিশ্চিত করা হলেও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীদের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাদের প্রতি সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
অনুষ্ঠানে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী সুলতানা কামাল বলেন, ঘরে-বাইরে নারী ও কন্যাশিশুদের কোথাও নিরাপত্তা নেই। তারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নারী নীতিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার, সম্পদ, বিবাহ বিষয়গুলো উপেক্ষিত থেকেই যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায় 'ধর্ষণ' শব্দটি ছিল না অথচ বর্তমানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পুরুষও এ ধরনের নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। শুধু ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার সমাজে নয়, পুরো সমাজেই বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে। এ প্রসঙ্গে সুলতানা কামাল সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যার বিচারের কোনো অগ্রগতি নেই বলেও উল্লখ করেন। তিনি এই বিচারহীনতার বিরুদ্ধে সার্বিকভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন।
