মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলায় আইএফজের উদ্বেগ

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২১:১৫
ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মাহ্ফুজ আনামের বিরুদ্ধে মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে প্রায় অর্ধশত মামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে)।
 
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি। তারা জানায়, মাহ্ফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলা বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর পরিষ্কারভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল।
 
বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক সংকটের সময় জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের ফলে মাহ্ফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাঁকে হয়রানির কারণে আইএফজে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। সারা দেশে তাঁর বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মামলা দায়ের এই ইঙ্গিতই বহন করে যে, এটা দেশের জ্যেষ্ঠ একজন সম্পাদক এবং শীর্ষস্থানীয় একটি সংবাদপত্রকে হয়রানি করতে আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক চেষ্টা।
 
এসব মামলার কোনোটা মানহানির অভিযোগে, কোনোটা রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে, আবার কোথাও কোথাও মানহানির পাশাপাশি রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে।এক-এগারোর সময় একটি গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশনা বাস্তবায়নে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে এবং আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে ‘ডেইলি স্টার’-এর সম্পাদক তাঁর পত্রিকায় মিথ্যা, বিকৃত ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করেছেন।
 
গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে এক-এগারোর সময় সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের বিচ্যুতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাহ্ফুজ আনাম তাঁর পত্রিকায়ও এমন ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছিল বলে স্বীকার করেন।
 
পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তাঁর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় নিজের ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে ‘ডেইলি স্টার’-এর সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলে তাঁর (মাহ্ফুজ আনাম) বিচার চান। এক দিন পর ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে কয়েকজন সাংসদ ‘ডেইলি স্টার’ বন্ধ এবং মাহ্ফুজ আনামের পদত্যাগ ও বিচার দাবি করেন। এর পরদিন থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে।
 
আইএফজে জানায়, মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগের। এই অঞ্চলে বাক স্বাধীনতার রোধ করতেই এই মামলাগুলো করা হয়। বাংলাদেশে গনমাধ্যমের জন্য প্রতিকূল অবস্থার মাঝে এই ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। আগেও ডেইলি স্টার হয়রানির শিকার হয়েছে বিবৃতিতে উল্লেখ করে আইএফজে।