তিন যুবককে ঘুরতে দেখা গেল মেলা প্রাঙ্গণে। জাগো ফাউন্ডেশনের ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’ এর পক্ষ থেকে তারা বই সংগ্রহ করছে। এ সংস্থা পরিচালিত ১০টা অনলাইন স্কুল আর তিনটি বিদ্যালয় রয়েছে। এসব স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য তারা বই সংগ্রহ করছেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাহরিয়ার বললেন, এবারের মেলায় এ পর্যন্ত ৪১২টি বই সংগ্রহ হয়েছে। মানুষের সাড়া দেখে তারা খুশি। শাহরিয়ারের সঙ্গে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইফ আর বিএন কলেজের এসএম মুক্তাদির। বইমেলা প্রাঙ্গণে এই তরুণদের পদচারণা নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে বইমেলায়। বইমেলায় কবিতা, গল্প-উপন্যাস, প্রবন্ধ প্রভৃতি বইয়ের চাহিদাই থাকে তুঙ্গে। এর সঙ্গে শিশুতোষ গ্রন্থও থাকে পাঠকদের চাহিদার শীর্ষে। বই বিক্রির বাইরেও বেশকিছু সংস্থা রয়েছে যারা বইমেলায় ভিন্ন ধারার কাজ করে চলে। তাদের এসব উদ্যোগ বইমেলায় নতুন মাত্রা যোগ করে সন্দেহ নেই।
বিকালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে যেন হঠাত্ই লালনদর্শন করলেন দর্শনার্থীরা। চুয়াডাঙ্গা থেকে এসেছেন আলম ও রাসেল নামের দুই তরুণ বাউল। তারা জানান, মেলায় এত মানুষ দেখে গান গাইবার লোভ সংবরণ করতে পারেননি তারা। রাসেলের বাড়ি দর্শনার পুরাতনবাজারে আর আলমের বাড়ি শ্যামপুরে। ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি ক্যামনে আসে যায়’, ‘তিন পাগলে হইলো মেলা নদে এসে, তোরা কেউ যাস নে ও পাগলের কাছে’সহ বেশ কয়েকটি লালনের গান শোনান তারা। তাদের গান শুনে ভিড় জমে যায় সেখানে। এই দুই তরুণ বাউলের সঙ্গে ছবি তুলতে ভোলেননি সেলফিপাগল মানুষ।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গোল্ডেন বাংলাদেশ (স্টল- ১০০ঙ) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের স্টল রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটি মেলায় মানুষকে আয়কর দেয়ার বিষয়ে উত্সাহ দিচ্ছে। মেলায় আসা মানুষদের আয়কর দিতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য রয়েছে তাদের বেশ কিছু প্রকাশনা গ্রন্থ। এছাড়া লিফলেট, পুস্তিকা রয়েছে। তারা আয়কর দেয়ার নিয়ম-কানুন সম্পর্কেও জানাচ্ছেন মেলার দর্শনার্থীদের। কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে প্রকাশনা, ওয়েব সাইটের মাধ্যমে তথ্য প্রদান, কল সেন্টার ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। ওয়েব সাইটের ঠিকানাঃ www.goldenbusinessbd.com
মূল মঞ্চের আয়োজন
বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মাহমুদ নূরুল হুদা জন্মশতবার্ষিকী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বরোচিষ সরকার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. নেহাল করিম, হাশেম সূফী, শামসুজ জাহান নূর, এইচএইচ মাহমুদ। সভাপতিত্ব করেন ড. এনামুল হক। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাঁধনহারা’, নবীন কিশোরের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক ফোরাম’ এবং ঝর্ণা আলমগীরের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী’র শিল্পীরা।
নতুন বই
বাংলা একাডেমির তথ্যমতে, মঙ্গলবার মেলায় এসেছে ৮৪টি নতুন বই। এর মধ্যে গল্প ১৮, উপন্যাস ১১, কবিতা ২৪, ছড়া ৪, শিশুতোষ ৭, জীবনী ২, রচনাবলী ১, নাটক ১, বিজ্ঞান ২, ইতিহাস ১, চিকিত্সা ও স্বাস্থ্য ১, কম্পিউটার ২, ধর্মীয় ২ ও অন্যান্য বিষয়ের বই এসেছে ৮টি। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে অবসর থেকে সৈয়দ শামসুল হকের ‘নির্বাচিত সেরা সাত’, অন্যপ্রকাশ থেকে আরিফ মঈনুদ্দিনের ‘ভালোবাসার দিনে প্রেমের পঙক্তিমালা’, মাওলা ব্রাদার্স থেকে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর ‘যে শ্রেষ্ঠ একা’, জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের ‘স্বপ্নে সীমানায় পারাপার’, বাতিঘর থেকে প্রকাশিত কবি স্বরূপ সুপান্থের ‘জলকামানের বই’, আহমদ জসিমের উপন্যাস ‘লালু অপেরার কইন্যা’, অ্যাডর্ন এনেছে তুষার আব্দুল্লাহর ‘তোমরা, সুন্দর হও,’ ঝিনুক প্রকাশনী এনেছে ‘গল্পগুলো ডাইনোসরের’, শ্রাবণ প্রকাশনী এনেছে সামিয়া রহমানের ‘কুতর্কে বিতর্কে গণমাধ্যম’, প্রিয়মুখ এনেছে অনুরূপ আইচের ‘প্রেমহীনা’, বাংলাপ্রকাশ এনেছে মাসুদা ভাট্টির ‘প্রেম ও মৃত্যুর গল্প,’ শব্দশৈলী এনেছে মোজাম্মেল হক নিয়োগীর ‘শরণার্থী শিবির থেকে সম্মুখযুদ্ধে’, স্টুডেন্ট ওয়েজ এনেছে সৈয়দ শামসুল হকের ‘মিশ্রগদ্য’, পুথিনিলয় এনেছে হায়াত্ মামুদের ‘ভিনদেশের রূপকথা’, অনন্যা এনেছে মোস্তফা মামুনের ‘ভালবাসার কালিতে ক্রিকেটের গল্প’, আগামী থেকে প্রকাশিত মাহমূদ সাইয়েদের ‘বিদ্যুত্ আবিষ্কারের ইতিকথা, একই প্রকাশনী থেকে ড. চিত্তরঞ্জন দাশের ‘ভিক্টোরিয়া থেকে নায়াগ্রা : জানা অজানার পথে পথে’, অবসর থেকে হাসান ইকবালের ‘ভাষা, নারী ও পুরুষপুরাণ’।
বুধবার মূল মঞ্চের আয়োজন
বুধবার বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘শওকত ওসমান জন্মশতবার্ষিকী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।
নজরুল মঞ্চের আয়োজন
বিকাল ৫টায় বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণের নজরুল মঞ্চে মোড়ক উন্মোচন করা হবে আগামী থেকে প্রকাশিত এম আবদুল আলীমের ‘পাবনায় রবীন্দ্রনাথ নজরুল বঙ্গবন্ধু’ ও প্রফেসর আবদুল খালেকের ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ও বধ্যভূমি’ শীর্ষক বই দুটির। মোড়ক উন্মোচন করবেন ড. গোলাম মুরশিদ।
