র্যাব-২ এর একটি টিম তদন্ত করে প্রথমে ব্যাংক হিসাবের ২ জন মালিক মোহাম্মদ আলী (৩০) এবং মঞ্জুর মাহমুদকে (৩১) আটক করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিকেতনের বি ব্লকের ১ নম্বর রোডের ৮ নম্বর বাসা থেকে তিনজন নাইজেরিয়ানকে আটক করে। আটককৃত নাইজেরিয়ান নাগরিকরা র্যাবকে জানায়, ২০১৩ সাল থেকে মোহাম্মদ আলী ও মঞ্জুর মাহমুদ এর সাথে তারা যৌথভাবে ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসার পাশাপাশি প্রতারণার মাধ্যমে নেয়ার চক্র তৈরী করে। প্রতারণার প্রথম পর্যায়ে তারা বাংলাদেশিদের মাধ্যমে টার্গেট খুঁজতে থাকে। পরবর্তীতে যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে টার্গেট প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে তাদের ফেসবুক আইডি বের করে তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে। এসব ক্ষেত্রে তারা খুবই সুদর্শন এবং আমেরিকা অথবা ইউরোপের নাগরিক পরিচয় দেয়। তাদের এ প্রতারণার ক্ষেত্রে কিছু মহিলা সদস্যও রয়েছে। বন্ধুত্ব গাঢ় হওয়ার পরে তারা প্রেমের অভিনয় এবং বিভিন্ন উপহার প্রেরণের মাধ্যমে সম্পর্কটাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়।
ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাত্কারী চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করেছে র্যাব। গত মঙ্গলবার রাতে র্যাব সদস্যরা বিশষে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটকৃতদের মধ্যে দু’জন দেশি ও তিনজন নাইজেরিয়ান নাগরিক রয়েছে। আটককৃতরা হলেন, মাহাম্মদ আলী (৩০) মঞ্জুর মাহমুদ (৩১),ফ্রাংকিন (৩০), ওবি হেচি (৩৪) ও আইকে ফ্ল্যাস্ক (৩৫)।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিচালক মেজর রুম্মান মাহমুদ জানান, এ চক্রটি ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে প্রমাণ রয়েছে। ওই চক্রের ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত একজন চিকিৎসক র্যাব অফিসে একটি অভিযোগ দেয়। ওই চিকিত্সক র্যাবকে জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে তার সাথে ডেসমন্ড বি স্যামুয়েল নামের এক ব্রিটিশ ভদ্রলোকের বন্ধুত্ব হয়। তার সাথে হোয়াটস অ্যপের এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ ব্রিটিশ ভাষায় তার কথাও হয়। বন্ধুত্বের সূত্রে ডেসমন্ড বি স্যামুয়েল তাকে ইংল্যান্ড হতে কিছু উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছেন বলে জানায়। গত ১০ ফেব্রুয়ারি মিন-রো ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের কুরিয়ার সার্ভিস-এর একজন প্রতিনিধি তাকে মোবাইল থেকে সমপূর্ণ ব্রিটিশ ভাষায় তাকে কল দেয়। তিনি চিকত্সককে জানান যে, তার নামে একটি গিফট বক্স এসেছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাবদ ছাপান্ন হাজার পাঁচশত ছেষট্টি টাকা পরিশোধ করতে হবে। সেই মোতাবেক ওই চিকিত্সক গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা হতে মিন-রো ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এর সোনালী ব্যাংকের উত্তরা শাখার একাউন্টে টাকা জমা দেন। পরবর্তীতে ১৩ ফেব্রুয়ারি মিন-রো ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল একই প্রতিনিধি একই মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে বলে, প্রেরণকৃত গিফট বক্স এর এক্স-রে স্ক্যান রিপোর্ট এর তথ্যে দেখা যায় যে, উক্ত বক্স এ ডায়মন্ড (হিরক) রয়েছে। এর মূল্য ২ কোটি টাকা। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে তাকে জানানো হয়, উক্ত গিফট বক্স সংগ্রহ করতে হলে তাকে দুই লক্ষ বাষট্টি হাজার নয়শত টাকা আরেকটি ব্যাংক হিসাব নম্বরে প্রেরণ করতে হবে। সেই মোতাবেক তিনি গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এসএমএসের মাধ্যমে প্রেরণকৃত মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড এর মিন-রো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের একটি একাউন্টে দুই লক্ষ বাষট্টি হাজার নয়শত টাকা জমা করেন। ঐ দিনে বিকালে তৃতীয়বার তাকে ফোনের মাধ্যম তাকে জানানো হয় যে, বক্স এর ভিতরে অনেক মূল্যবান দ্রব্যাদি থাকায় তাকে আরও দশ লক্ষ তিরাশি হাজার টাকা প্রেরণ করতে হবে। তখন তিনি উক্ত গিফট বক্স এর যথাযথ অবস্থান জানতে চাইলে জবাবে পরবর্তীতে জানানো হবে বলে বলা হয়। এ অবস্থায় টাকার পরিমাণ বেশি হওয়ায় এবং গিফট বক্স এর সঠিক ঠিকানা না জানানোর কারণে বিষয়টি চিকিত্সকের কাছে সন্দেহজনক বলে মনে হলে তিনি ঘটনাটি র্যাবকে জানান।
