কেউ যেন বইটি না পড়ে, বললেন জাফর ইকবাল

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১০:৩১
বইমেলা মুখর ছিল ব-দ্বীপ প্রকাশন বন্ধ ও বাজেয়াপ্ত করা বই নিয়ে আলোচনায়। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, ইসলাম ধর্ম ও মহানবীকে (সা.) নিয়ে কুত্সা লিপিবদ্ধ ছিল বইটিতে। সে কারণেই এই বই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই এ চক্রান্ত। একটি বইয়ের জন্য মেলার পরিবেশ ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা ঠিক হবে না। প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করার প্রতিবাদে কিছু সংস্কৃতিকর্মী বইমেলার প্রবেশপথের সামনে টিএসসি চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। তবে তারা কেউই বইটি পড়ে দেখেননি বলে জানান। এদের মধ্যে অনেকেই আবার বইয়ে কি লেখা ছিল সেটা জানবার পরে তাদের আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন।
 
মেলায় আসা পাঠকরা বলছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আর স্বেচ্ছাচারিতা এক বিষয় নয়। মতপ্রকাশ করতে গিয়ে যেন আমরা কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না হানি, সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখতে হবে। যুক্তি দিয়ে সমাজ থেকে আমাদের কুসংস্কার দূর করতে হবে।
 
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির নির্দেশে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ব-দ্বীপ প্রকাশনকে বন্ধ করে দেয়। ব-দ্বীপ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ব-দ্বীপ প্রকাশনের প্রকাশক শামসুজ্জোহা মানিক সম্পাদিত ‘ইসলাম বিতর্ক’ বইটিতে ইসলাম ধর্মের অনুভূতি আঘাত করা হয়েছে অভিযোগে স্টলটি বন্ধ করা হয়। সেইসঙ্গে একই প্রকাশনীর আরও পাঁচটি বইও জব্দ করে পুলিশ। ঐদিন রাতে প্রকাশক শামসুজ্জোহা মানিক, ফকির তসলিম উদ্দিন ও শামসুল আলম চঞ্চলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ (২) ধারা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় ও রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
 
এ প্রসঙ্গে কথা সাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, যে বইটির কারণে স্টলটি বন্ধ করা হয়েছে, সেটির কয়েকটি লাইন আমাদের বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান আমাকে পড়ে শুনিয়েছেন। আমি কয়েক লাইন শোনার পর আর সহ্য করতে পারি নি। এত অশ্লীল আর অশালীন লেখা। এই স্টলটিকে আর অন্য দশটি সাধারণ স্টলের সঙ্গে তুলনা করলে চলবে না। তিনি বলেন, আমি মনে করে লেখালেখির সময় কিছুটা সতর্ক থাকতে হবে। যাতে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না আসে। আর যে বইটির বিষয়ে কথা হচ্ছে, আমার অনুরোধ কেউ যেন এই বইটি না পড়ে। ‘লেখক-প্রকাশক-পাঠক-জনতা’র ব্যানারে গতকাল বুধবার টিএসসির সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে প্রকাশক, লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শ্রাবণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী রবিন আহসান, লেখক বাকি বিল্লাহ, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকী আক্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দী, লেখক লাবনি মণ্ডল প্রমুখ।
 
নতুন বই : বাংলা একাডেমির তথ্যমতে গতকাল প্রকাশিত হয়েছে ১৪০টি বই। এরমধ্যে গল্প ১৮, উপন্যাস ১৯, প্রবন্ধ ৬, কবিতা ৪৭, গবেষণা ১, ছড়া ৩, শিশু সাহিত্য ৫, জীবনী ৩, রচনাবলী ১, মুক্তিযুদ্ধ ১২, বিজ্ঞান ৩, ভ্রমণ ৩, ইতিহাস ৩, চিকিত্সা স্বাস্থ্য ১, অনুবাদ ১, ও অন্যান্য ১৪টি। এদিকে, মেলায় এসেছে নিউইয়র্ক প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক দর্পণ কবীরের দুটি গ্রন্থ। বিশ্ব সাহিত্য ভবন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বই দুটির একটি হচ্ছে কাব্যগ্রন্থ ‘বসন্ত নয় অবহেলা’, আর ছড়াগ্রন্থ ‘বোকারাম হদ্দ’। এছাড়া মেলায় প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে আগামী এনেছে ড. মোহাম্মদ হাননান ‘বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস’, ড. চিত্তরঞ্জন দাসের ‘ভিক্টোরিয়া থেকে নায়াগ্রা জানা অজানার পথে পথে,’ শিকড় এনেছে রকিব হাসানের ‘কিশোর মুসা রবিন সমগ্র ১,’ অন্যপ্রকাশ এনেছে পূরবী বসুর ‘বাংলার স্মরণীয় নারী’, অনন্যা এনেছে হাসান হাফিজের ‘অভিমান মৃত্যু ও পাথর’, আলী ইমামের ‘জানা অজানার বিচিত্র বিশ্ব’, নন্দিতা প্রকাশ এনেছে রশীদ হায়দারের ‘নষ্ট জোছনায় এ কোন অরণ্য’, উত্স প্রকাশন এনেছে আবুল মাল আবদুল মুহীতের রচনাবলী ২য় খণ্ড’, অনুপম এনেছে ড. মাহবুবুল হকের ‘ভাষার লড়াই থেকে মুক্তিযুদ্ধ,’ জয়তী এনেছে নির্মলেন্দু গুনের ‘কবিতা, অমিমাংসিত রমণী’।