দেশে সাড়ে পাঁচ লাখ শিশু মাদকাসক্ত

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০৮:০৫
দেশে এখন প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শিশু মাদকাসক্ত। এখনই এ ব্যাপারে যথাযথ পদেক্ষপ না নিতে ভবিষ্যত্  প্রজন্ম  রক্ষা করা  দুরূহ হয়ে পড়বে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর আয়োজিত এক  অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি এসব কথা বলেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর জানুয়ারি মাসে সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান ও প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। ‘মাসব্যাপী মাদক বিরোধী প্রচারণা কার্যক্রমের  প্রদর্শনী ও রিকভারি’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিভাগ ভিত্তিক স্টল সাজানো হয় এবং বিভাগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড প্রদর্শন করা হয়। 
 
টিপু মুনশি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আজ দেশের সবাইকে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। আর যুদ্ধ ঘোষণা না করতে পারলে আগামী প্রজন্ম নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে। যে কোনো মূল্যে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হবে।
 
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. রাখাল চন্দ্র বর্মণ, অর্থমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আমীর হোসেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক  খন্দকার রাকিবুর রহমান।
 
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মাসব্যাপী এ কর্মসূচির মধ্যে ছিল বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মাদকবিরোধ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বির্তক প্রতিযোগিতা, গোলটেবিল বৈঠক, মঞ্চনাটক প্রদর্শন, বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড স্থাপন, যানবাহনে মাদকবিরোধী স্টিকার লাগানো, শপিংমল, ফুট ওভারব্রিজ, হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বহুতল ভবন, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী দেয়াল লিখন, বিভিন্নস্থানে বৃহত্ আকারের মাদকবিরোধী ফেস্টুন স্থাপন, গণস্বাক্ষর  অভিযান, উদ্বুদ্ধকরণ সভা, মানববন্ধন সভা, মানববন্ধন রচনা, জনসমাগমস্থল ও বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, মাদকবিরোধী কনসার্ট ও শর্টফিল্ম প্রদর্শন।
 
 মাসব্যাপী পালিত অনুষ্ঠামালায় সরকারের মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, দেশের বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিসহ সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানুয়ারি মাসব্যাপী প্রতি শুক্রবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় জুমা’র নামাজের খুত্বা পাঠের পূর্বে মসজিদের ইমাম, খতিবগণের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য সেবন ও মাদক বিক্রয়লব্ধ অর্থ দ্বারা জীবিকা নির্বাহের বিষয়ে ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে মুসল্লিগণের উদ্দেশ্যে বয়ান প্রদান করার বিষয়টিও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।  একই সাথে বিভিন্ন ধর্মীয় উপসনালয়ে একই ভাবে বিভিন্ন কার্যাবলী পরিচালিত হয়।
 
ঢাকায় অনুষ্ঠিত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় একটি মিনি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ নিয়ে মাদকবিরোধী ডিজিটাল প্রচার-প্রচারণা পাশাপাশি প্যাভিলিয়নে মাদকবিরোধী প্রচারণা সামগ্রী, তথ্য ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়েছে এবং বিনামূলে কাউন্সেলিং প্রদান করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মিনি প্যাভিলিয়নটি দেশে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ পরিদর্শন করেছেন এবং মেলায় প্যাভিলিয়নটি জগচ-২ ক্যািটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে।
 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্টল প্রদর্শনের পাশাপাশি মাদকবিরোধী আলোচনা সভা, রিকভারি সম্মেলন ও রিকভারি এডিক্টদের নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদশর্ন এবং মাদকবিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, এনজিও প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও মিডিয়ার সম্মানিত সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার লোকজন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।