একাত্তরের আরজ আলী

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ১৯:২২

মগড়া নদীর দখিন পাড়ে হিজলতলি গ্রাম

সেই গ্রামেরই কিশোর ছেলে আরজ আলী নাম।

একাত্তরে পাক সেনারা সেই গ্রামে দেয় হানা

দৌড়ে মানুষ দৌড়ে পাখি দৌড়ে ছাগলছানা। 

 

কিন্তু কিশোর আরজ আলীর শক্ত বুকের পাটা

তার সাহসের গল্প শুনে শিউরে ওঠে গা-টা

একটুখানি দৌড় না দিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে

‘দোয়া করো মাগো’—বলে দেয় তাড়িয়ে মাকে।

 

ঘর থেকে এক রামদা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ঝোপে

একটা পাকির মাথা দু-ভাগ দেয় করে এক কোপে

বাদবাকি সব শত্রুসেনা চালায় তখন গুলি

এক নিমিষে যায় উড়ে তার শক্ত মাথার খুলি।

 

আর কি থাকে পাক সেনারা! যে যার মতো পালায়

জান বাঁচাতে লাফিয়ে পড়ে ডোবা-নদী-নালায়।

ভাবে তারা—আরজ ছিল মুক্তিসেনার চর

ওই গ্রামে আর যায়নি তারা থাকতে একাত্তর।

 

চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে আরজ আলীর খবর

হিজলতলি গ্রামের মাঠেই তার হয়েছে কবর

বছর পরে সেই কবরে উঠল গড়ে মিনার—

মিনার যেন অশ্রুভরা মায়ের চোখের কিনার।