পাবনাস্থ সেই ছোট মধুপুর গ্রাম

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ১৯:২৯

স্মৃতি বিজড়িত ছোট মধুপুর গ্রাম ছিল বড় আদরের;

খুঁজে পাবো না আর, যা খুবই দুঃখ এবং পরিতাপের।

রাক্ষসিনী যমুনার করাল গ্রাসে মুছে গেছে তা চিরতরে;

পশ্চিমে নেই কুলকুল ধ্বনি কোলচিনাখরা তটিনীর নীরে।

পূর্বে মাঠান জমি, তত্পর বয়ে গেছে ভয়াল নদী যুমনা;

পশ্চিম দিকে মাঠ ঘেঁষে খালসম উক্ত নদী আঁকা-বাঁকা।

দক্ষিণে গণপতদিয়া গ্রাম ও ধোবাখোলা করনেশন হাইস্কুল;

উত্তরে ঐতিহ্যবাহী হাট মথুরা ও বাঁকা সহোদরা গাঁ যদুপুর।

কৃষিকাজ-সহ চাকুরে একচল্লিশটি পরিবার নিয়ে জনপদ;

অথচ সব চিরতরে শেষ হয়ে গেছে, পূরণ হবে না মনোরথ।

দিবা রজনী দুশোর অধিক লোকের আর নেই মধু গুঞ্জরণ;

মাঠকুরা—ধলাইবিলের মাছ কেউ ধরে না নিয়ে আপনজন।

কোথায় সাজানো-গোছানো চৌধুরী, মোল্লা ও শেখ পাড়া;

হাফেজ, খান বাড়ি এবং বিশ্বাস আর বৃদ্ধ পণ্ডিত দাদারা।

আর তো ডাকে না শিমুল বৃক্ষে ঈগল বিহঙ্গ প্রহরে প্রহরে;

আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার হয় না এখন সমাগম শুভ বিয়ের আসরে।

শেখ বাড়ি ঘেঁষে আকন মোল্লার ভিটায় সে কাঁচা-মিঠা আম;

চৈতি দুপুরে দামাল ছেলেরা খেতো কতই করে না ধুমধাম।

বর্ষায় শাপলার মজাদার খইয়ের কথা এখনো মনে পড়ে;

জলজ ফল শালুক ডুবে ডুবে উঠিয়েছি ধানের খেত হতে।

আউশ ধানের ঢেঁকিছাঁটা চিঁড়া, আর বরন ধানের যে মুড়ি;

এখনো মনে পড়ে ভাজা পুঁটি মাছে বোরো ধানের খিচুরি।

শীতকালে খেসারি এবং মটরশুঁটি গোপনে মাঠে সিদ্ধ করে;

গোল হয়ে মজা করে খেয়েছি রূপবানের গানের সুর ধরে।

অতি ছোট জনপদ হলেও বেড়া থানায় এর তুলনা মেলা ভার;

শিক্ষা-দীক্ষায় ও সংস্কৃতিতে তাক লাগিয়ে ওপরে ছিল সবার।

শহীদ ময়ছের চৌধুরী ও ওফাজ মোল্লার কথা সদা মনে পড়ে;

শিক্ষিত মানুষের যথাযোগ্য মূল্য দিতেন অতীব আপন করে।

এখনো তো ক্ষণে ক্ষণে হূদয় কাঁদে জন্মভূমি মধুপুরের তরে;

যদি আবার ফিরে পেতাম, বুকে রাখতাম একান্তে জড়িয়ে ধরে।