তেঁতুল সুবৃহত্ ও সুদৃশ্য চিরসবুজ বৃক্ষ। প্রচুর শাখা-প্রশাখা ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘন পাতা বিশিষ্ট গাছ। বছরের পর বছর বিভিন্ন প্রতিকূলতা সহ্য করে বেঁচে থাকতে পারে। শত বছরের আয়ু তেঁতুলের জন্য আশ্চর্য কিছু নয়। গাছের বৃদ্ধি ধীর। গাছ ও কাণ্ড খুবই শক্ত—তাই সহজে ঝড়-বাতাসে ভেঙে পড়ে না। গাছ গড়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিটার লম্বা হয়ে থাকে। গাছের কাণ্ডের বেড় ৭ থেকে ৮ মিটার পর্যন্ত হয়। যৌগিক ছোট ছোট পাতা চিরুনির মতো সাজানো থাকে। ফুল ফোটার মৌসুম জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাস। ফুলের রং হালকা বাদামি। তাতে হলুদ লালচে দাগ থাকে। ফুলের পাপড়ি সংখ্যা পাঁচটি। পরাগায়ন ঘটে পতঙ্গ দ্বারা। ফল লম্বায় ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার হয়। ফল কাস্তের মতো বাঁকা ও সোজাও দেখতে পাওয়া যায়। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পাকে। ফল গাছের ডালে থোকায় থোকায় ধরে। পাকা ফলের ঘ্রাণ টক মিষ্টি। পাকা তেঁতুলের খোসা মচমচে এবং ভেতরে পুরু শাঁস থাকে। ফলের রং শাঁস কাঁচা থাকলে সবুজাভ ও পাকা ফল বাদামি রঙের হয়। প্রতি ফলে ৫ থেকে ১২ টি বীজ থাকে। বীজের রং খয়েরি।
তেঁতুল বীজ থেকে চারা হয়। তাছাড়া ক্লেফট গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে কলম চারা তৈরি করা যায়। গ্রাফটিং করা চারার মাধ্যমে স্বল্প সময়ে কাঙ্ক্ষিত মান সম্পন্ন জাত তৈরি ও ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রায় সব ধরনের মাটিতে তেঁতুল চারা হয়। গ্রাফটিং করা চারা টব বা ড্রামে লাগানো যায়। দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, বগুড়া ও গাজীপুর জেলায় তেঁতুল ভালো জন্মে। তেঁতুলের কোনো অনুমোদিত জাত নেই। তবে ইদানীং মিষ্টি তেঁতুলের জাত নিয়ে গবেষণা ও মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের কাজ চলছে।
তেঁতুল কাঁচা ও পাকা দুভাবেই খাওয়া যায়। স্বাদে টক। তেঁতুলে টারটারিক অ্যাসিড থাকায় স্বাদ টক হয়। বীজ বিভিন্ন নকশিশিল্পে ব্যবহূত হয়ে থাকে। পাকা ফল শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। আচার চাটনি ও অন্যান্য ভেষজ কাজে তেঁতুল ব্যবহূত হয়। তেঁতুলে প্রচুর শর্করা, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২, ভিটামিন-সি রয়েছে। পেটের বায়ু, হাত-পা জ্বালা-পোড়ায় তেঁতুলের শরবত বেশ উপকারী। তেঁতুলের কচি পাতা সেদ্ধ করে ঠান্ডা করে খেলে সর্দি ভালো হয়, হজমে সহায়তা করে, মাথাব্যথা দূর হয়, ধুতরা ও কচুর বিষাক্ততা এবং অ্যালকোহলের বিষাক্ততা নিরাময় করে। গাছের ছাল চুর্ণ ব্যবহারে দাঁত ব্যথা, চোখ জ্বালা-পোড়া নিরাময় ও উচ্চ রক্তচাপ কমায়।
