শহীদ মিনারে ফুল দেয়া হলো না আঁখির

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৩:২৫
গ্রাম থেকে শহরের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। গ্রামের কোথাও ফুলের দোকান নেই। রাত প্রহালেই ২১ শে ফেব্রুয়ারি। আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস। ঠাকুরগাঁওয়ে সদর উপজেলার শিবগঞ্জ মালিগাও এলাকার ভগদগাজি স্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী আঁখিসহ চার বান্ধবী শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফুলের দোকান না থাকায় পাশের বাড়ির একটি বাগানে ফুল তুলতে যায় তারা।
 
তখনই ওই বাগান মালিকের স্ত্রী দেখে ফেলে ফুল তুলতে। অনেক রাগারাগি করার কারণে আঁখিসহ ৪ বান্ধবী চলে যায় সেখান থেকে। কিছুক্ষণ পর বাগান মালিক নাসিরুল ইসলাম আঁখির বাসায় গিয়ে আরো বকা দেয়। ওই ব্যক্তি বাড়ি ত্যাগ করার পর অভিমানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে আঁখি। 
 
শনিবার দিবাগত রাত ১টায় এ ঘটনা ঘটে।
 
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ মালিগাও এলাকার কাবুলের মেয়ে আঁখি। সে ভগদগাজি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী।
 
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের লোক আঁখির ঘরে ঢুকতে চাইলে সারা না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। পরে স্থানীয় লোকজন ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশকে খবর দিলে আঁখির লাশ উদ্ধার করে।
 
বাগান মালিক নাসিরুল ইসলাম জানান, একটি বাগান করতে অনেক খরচ লাগে। মেয়েগুলো আমাদেরকে না জানিয়ে ফুল তুলেছে। তাই একটু বকাবকি করেছি মাত্র। এতটুকু কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে না।
 
স্থানীয় চেয়ারম্যান দবিরুল ইসলাম আঁখির আত্মহত্যার কথা নিশ্চিত করে বলেন, 'বেশি আবেগের কারণে এমনটি ঘটেছে।'
 
ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আব্দুল মান্নান জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। তার আত্মহত্যার কারণ এখনো পুলিশ জানতে পারেনি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।