নিউইয়র্কে শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় ভাষা শহীদদের স্মরণ

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৭:৩০
যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের মানুষ পেয়েছিল মায়ের ভাষার অধিকার, সেইসব বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। একুশের প্রথম প্রহরের সঙ্গে মিল রেখে এবার ব্যতিক্রমী আয়োজনে উদযাপিত হলো অমর একুশে। প্রবাসীদের সঙ্গে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন মার্কিন মূলধারার জনপ্রতিনিধিরাও।
 
বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ০১ মিনিটে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদের স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে রচিত হয় জাতিসংঘের সামনে একুশে উদযাপনের ২৫ বছর পূর্তির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন এবং বাঙালী চেতনা মঞ্চের যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসময় মানুষের ঢল নামে।
 
প্রথমে বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে পু®পস্তবক অর্পণ করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। এরপর নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান এনডিসি শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ, মুক্তাধারা ফাউন্ডেশন, বাঙালি চেতনা মঞ্চ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পু®পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর আলোচনা, স্বরচিত কবিতা পাঠ, পুথি পাঠ এবং ভাষার গানের আয়োজন করা হয়।
 
আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট মেলিন্ডা ক্যাটজ, ফিলাডেলফিয়ার ডেপুটি মেয়র নীনা আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার প্রমুখ।
 
অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক স্টেট গভর্নর এন্ডুু ক্যুমোর পক্ষ থেকে সাইটেশন প্রদান করা হয়। মুক্তধারার পক্ষ থেকে সাইটেশন গ্রহণ করেন সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেমন্তী ওয়াহেদ।
 
এদিকে নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যামাইকায় ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি। স্থানীয় সময় শনিবার একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে জ্যামাইকার এক্সিট রিয়েলটিতে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় বিভিন্ন সংগঠন। 
 
IMG0
 
অনুষ্ঠানে ‘একুশের চেতনায় নতুন প্রজন্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নেন অধাপক হুসনে আরা বেগম, সাংবাদিক রিমন ইসলাম ও আব্দুর রশীদ। আলোচনা সভার সঞ্চালক ছিলেন নাসির আলী খান পল।
 
জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রেজাউল আজাদ ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, সাবেক সভাপতি বিলাল চৌধুরী, একুশ উদযাপন কমিটির সভাপতি সালেহ আহমদ, সদস্য সচিব শহীদুল ইসলাম, সংগঠনের উপদেষ্টা ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, ছাদরুন নূর, কংগ্রেসমেন গ্রেস মেং এর প্রতিনিধি আলেকজান্ডার বেনেট প্রমুখ।
 
অমর একুশে উপলক্ষে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করে জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটি। এটি সম্পাদনা করেছেন সংগঠনের সহ-সভাপতি এফএম মিসবাহ্্উজ্জামান। 
 
অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এস্টোরিয়ার সাউন্ডভিউ মিলনায়তনে আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এছাড়া নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন সংগঠন। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি গভীর রাত পর্যন্ত একুশের নানান অনুষ্ঠানমালা উপভোগ করেন।
 
এদিকে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শনিবার বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়। বিকেলে মিশনের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রী চিন্ময় বোধি গ্রুপের থিম সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের সূচনা করা হয়।
 
বিদেশি অতিথিবৃন্দ স্থায়ী মিশনে স্থাপিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও মাল্টিলিংগুয়ালিজম এর সমন্বয়ক ক্যাথরিন পোলার্ড, আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক ইনফরমেশনের প্রধান ক্রিস্টিনা গায়াচ এবং পোলান্ড, মালদ্বীপ, সিয়েরা লিয়ন, শ্রীলঙ্কা ও হাঙ্গেরীর স্থায়ী প্রতিনিধি। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাবৃন্দ সাড়িবদ্ধভাবে একে একে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিদেশি অতিথিদের অংশগ্রহণে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেন শ্রী চিন্ময় বোধি গ্রুপ। এই গ্রুপের পনের জন বিদেশী শিল্পী বাঙালি সাজে সেজে বাংলায় তিনটি প্রার্থনা ও দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেন। এই গ্রুপের নেতৃত্বে সমবেতভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।