তৈরি হচ্ছে না কালজয়ী অভিনেতা-অভিনেত্রী

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ২১:১৭

সম্প্রতি ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এখন আর আগের মতো কালজয়ী অভিনেতা-অভিনেত্রী তৈরি হচ্ছে না। পাঠকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে তারাও তাই মনে করেন কিনা। এ বিষয়ে টেলিফোনে ও ইমেইলে প্রাপ্ত মতামত আজ প্রকাশিত হলো।

আগে একজন তারকা তৈরি হতে অনেক সময় লাগতো এবং অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তারাই হতেন এক একজন কালজয়ী অভিনেতা-অভিনেত্রী। এখন প্রচার মাধ্যমের ব্যাপকতার কারণে তারকাখ্যাতি যেমন দ্রুত পাওয়া যায়, তেমনি তাদের হারিয়ে যেতেও তেমন সময় লাগে না। এখন চলচ্চিত্রে বাণিজ্য ছাড়া কিছু বোঝেন না। আমাদের দেশে এখনও কোনো পূর্ণাঙ্গ ফিল্ম ইনস্টিটিউটও গড়ে ওঠেনি। চলচ্চিত্র সম্পর্কে সম্যক লেখাপড়া ও জ্ঞানের অভাব ভালো চলচ্চিত্র তৈরি এবং সেই সঙ্গে কালজয়ী নায়ক-নায়িকা সৃষ্টি না হওয়ার অন্যতম কারণ।

মোহাম্মদ শহীদউল্যা

হক ভিলা, মেরাদিয়া, ঢাকা।

এখন ছবি দেখে বের হওয়ার পর দর্শকদের কোনোরকম প্রতিক্রিয়া দেখতে পাই না। যে দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যতো শিক্ষিত, সে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি ততো উন্নত। আমাদের দেশে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দ্বিধা-বিভক্তি চলে এসেছে।

অমিত বণিক

উত্তরা, ঢাকা।

সত্তরের বা আশির দশকে বাংলাদেশে ভালো সামাজিক ছবি ছিল। তখন পরিবারের সবাই মিলে ছবি দেখার সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন বাংলাদেশে অনেক ছবি পরিবার নিয়ে দেখার সুযোগ থাকে না। দিনদিন চলচ্চিত্র খারাপের দিকেই যাচ্ছে। এর থেকে উত্তরণের মনে হয় সুযোগ নেই।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

আগে ছবি দেখার সময় নায়ক-নায়িকারা যদি কান্না করতো তাহলে দর্শকরাও কান্না করতো। তবে এখন আর তেমনটা হয় না। এখনকার পরিচালকেরা ভালো মানের ছবি বানানোর দিকে গুরুত্ব না দিয়ে কিভাবে বেশি টাকা আয় করবে সেই দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। যার ফল হচ্ছে এখন আর আগের মতো কালজয়ী চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে না।

 সাবরিনা সুলতানা মিশু

ন্যাশনাল কলেজ অব হোম ইকোনমিকস,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

হারিয়ে গেছে চলচ্চিত্রের সেই সোনালি দিন। তৈরি হচ্ছে না মনে দাগ কাটার মতো ব্যবসা সফল কোনো চলচ্চিত্র বা কোনো লিজেন্ড। চলচ্চিত্রের অগ্রগতির বদলে শুধু অধঃপতন হয়েছে গত দুই-আড়াই দশকে!

 মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগ বলেন অনেকেই, আমিও একমত। সেই সময়ে চলচ্চিত্রকে নিজেদের আলোয় আলোকিত করেছেন রাজ্জাক-কবরী, উজ্জল-ববিতা, শাবানা-আলমগীর, ফারুক-ববিতা, বুলবুল আহমেদ-ববিতা, সোহেল রানা-সুচরিতা, জসিম-রোজিনা, ওয়াসীম-অলিভিয়া বা অঞ্জু ঘোষ, জাফর ইকবাল-ববিতা, আজিম-সুজাতা, রহমান-শবনম, আনোয়ার হোসেন-আনোয়ারা, ইলিয়াস কাঞ্চন-দিতি, সালমান শাহ-শাবনূর বা মৌসুমীর মতো জুটি। কিন্তু পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি, মান্না, রিয়াজ, ফেরদৌস, সাকিব, শাবনাজ, পপি, অপু বিশ্বাসসহ অনেক নায়ক-নায়িকা বাংলা চলচ্চিত্রে এলেও সেই অর্থে লিজেন্ড হয়ে উঠতে পারেননি কেউই। আমি বলি, আসলে কেউ লিজেন্ড হয়ে জন্মায় না। পর্দার ইমেজ অভিনেতাকে লিজেন্ড করে দেয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে সে ধরনের অভিনয় কি দেখতে পাচ্ছি আমরা?

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল।

দুই দশক ধরে কত চলচ্চিত্রশিল্পীর আগমন ঘটেছে আমাদের চলচ্চিত্র প্রাঙ্গণে। এর মধ্যে একজন শিল্পী ও নিজস্ব ইমেজ, নিজস্ব স্টাইল গড়ে তুলতে পারেননি। যেমনটি  গড়ে তুলেছেন কবরী, রাজ্জাক, শাবানা, ববিতা। ভালো পরিচালক, ভালো ছবির আকাল চলছে ছবির ভুবনে।

সালেহা আফরিন বেবী

শিবগঞ্জ, সিলেট।

কথায় বলে, যেখানে গুণী তথা অভিনেতা-অভিনেত্রীর কদর নেই সেখানে গুণী তথা অভিনেতা-অভিনেত্রী জন্মও নেয় না। তার উপর মস্ত প্রতিবন্ধকতা হিসেবে আছে ধর্মীয় অনুশাসন, সামাজিক বেড়াজালসহ নানাবিধ বাস্তব বাধা-বিপত্তি। কিন্তু এতশত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করেও আমরা রাজ্জাক-কবরী-ববিতার মতো কালজয়ী কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রী পেয়েছি। কিন্তু গত দুই যুগের অধিককাল ধরে বাংলাদেশে শিল্প-সংস্কৃতিতে চরম মন্দাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তার জন্য সংশ্লিষ্ট বোদ্ধারা অবাধ আকাশ সংস্কৃতি ও বিশ্ব প্রতিযোগিতার মার্কেটকে দায়ী করছেন। এটা আংশিক সত্য বটে। বোম্বের শাহরুখ কিংবা অমিতাভ, আমেরিকার মেরিলিন মনরো, ইতালির সোফিয়া লরেন, মিশরের শরীফ একদিনে সৃষ্টি হয়নি।

ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

ভুঁইয়াবাড়ী, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

বর্তমানে কালজয়ী অভিনেতা বা অভিনেত্রী সৃষ্টি না হওয়ার কারণ হচ্ছে, বর্তমান প্রচার ব্যবস্থা এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীদের গড়ে উঠার পন্থা নিয়ে বিভ্রান্তি। আগের কালজয়ী অভিনেতা-অভিনেত্রীরা মঞ্চ থেকে উঠে এসেছেন। সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে তাদের বিকাশ। এখন You Tube এবং Facebook হচ্ছে প্রচারণা এবং সমালোচনার প্রধান ক্ষেত্র। এতে সমালোচনা না হয়ে বরং তোষামোদ এবং অযোগ্যকে প্রশংসা করার প্রবণতা গড়ে উঠেছে। তাই কালজয়ী অভিনেত্রা-অভিনেত্রী বা নায়ক-নায়িকার আবির্ভাব দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থার অবসান হওয়া একান্ত জরুরি।

মাখরাজ খান

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ।

’৬০-এর দশক থেকে ৯০-এর দশক পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগ বলা হয়। ’৯০-এর পর থেকে চলচ্চিত্রে ধস নেমেছে তা সবাই জানে।

ডা. মো. জামিল রহমান

গোপালপুর, টাঙ্গাইল

এখন আর আগের মতো কালজয়ী অভিনেতা-অভিনেত্রী তৈরি হচ্ছে না। এ বক্তব্যের সঙ্গে আমিও একমত। চলচ্চিত্রে এখন সংকট চলছে। এর কারণ বহুবিধ।

মো. সিকদার আলী সাগর

শান্তিনগর ঢাকা

এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সবার সহযোগিতা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা

বর্তমানে চলচ্চিত্রে আগের মতো কালজয়ী অভিনেতা-অভিনেত্রী তৈরি হচ্ছে না একথা সত্য।

মাসুম আহমেদ

যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

আমিও তাই মনে করি। এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া একান্ত জরুরি।

বাবুল

ধানমন্ডি, ঢাকা

প্রায় পাঁচ যুগ আগে কালজয়ী অভিনেতা/ অভিনেত্রী তৈরি হয়েছিল। দর্শকরা হলে গিয়ে সিনেমা উপভোগ করতেন। বর্তমানে সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দর্শক শূন্যতায়। আমার মনে হয়, চলচ্চিত্র অঙ্গনে কালজয়ী অভিনেতা অভিনেত্রী তৈরির কারিগররা নেই এখন। এই কারিগরদের অভাবে কালজয়ী অভিনয় শিল্পী তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

ফারুক আহম্মেদ

বাঘমারা, রাজশাহী।

কালজয়ী অভিনেতা/অভিনেত্রী আর এখন তৈরি হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ এখন অভিনয় এবং ছবির মান নেই। নতুন যারা আসছেন তাদের ইচ্ছে দ্রুত তারকা হওয়া। তবে নির্মাতারা যদি সঠিক নির্দেশনা দেন তাহলে এই সংকট কাটবে বলে আশা করা যায়।

সালমা আর রোজ

ফার্মগেট, ঢাকা

আমি একমত। ৬০-এর থেকে ৯০-এর দর্শক পর্যন্ত সময়কে বলা যায় চলচ্চিত্রের সোনালি যুগ। সে সময় চলচ্চিত্র জগেক আলোকিত করেছেন দক্ষ নির্মাতারা ও অভিনেত্রী-অভিনেতারা। এখন ছবির মানও নেই। হলে দর্শকও নেই। তবে এই শিল্প পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজন ভালো নির্মাতা তৈরি।

মোঃ খায়রুল ইসলাম (ফুল)

নারাপপুর, ঝিনাইদহ

হ্যাঁ, এখন আর আগের মতো কালজয়ী অভিনেতা/অভিনেত্রী তৈরি হচ্ছে না। কারণ আগে যারা অভিনয়ের সাথে যুক্ত ছিল অভিনয় ছিল তাদের ধ্যান-জ্ঞান, স্বপ্ন ও সাধনা।

মোঃ আবুল কালাম আজাদ

গ্রাম: সদারপাড়া , মুন্সীগঞ্জ

চলচ্চিত্র শিল্প এখন অনেকটা বেহাল দশায় পতিত হয়েছে। চলচ্চিত্র শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে সরকারকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে।

জাহাঙ্গীর হোসাইন

পীরেরবাগ, মিরপুর, ঢাকা।

বর্তমানে চলচ্চিত্রের দুরবস্থা যাচ্ছে। একথা সত্যি যে এখন আর কালজয়ী অভিনেতা-অভিনেত্রী আগের মতো আর তৈরি হচ্ছে না।

মোঃ হানিফ মিয়া

মনেশ্বর লেন, হাজারীবাগ, ঢাকা।

আমাদের দেশে এক সময়ে চলচ্চিত্রের ছিল রমরমা অবস্থা। দিনে দিনে এর অবস্থা অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। গত দুই দশকে বাংলা চলচ্চিত্র বেশকিছু মেধাবী, সুদর্শন, গুণী, অভিনেতা অভিনেত্রী এলেও তারা সেভাবে উঠে আসতে পারেনি।

আল মায়ামী

ফুলবাড়িয়া, সাভার।

সত্যিই হারিয়ে গেছে চলচ্চিত্রের সেদিন। এখন আর আগের মতো সপরিবারে ও বন্ধু বান্ধবদের সাথে দল বেঁধে হলে গিয়ে কেউ ছবি দেখে না। মনে দাগ কাটার মতো এখন আর তৈরি হচ্ছে না চলচ্চিত্র। এখন যারা অভিনয়ে আসছেন তারা রাতারাতি স্টার হতে চান।

সুলতানা জামান

মানিকনগর, ঢাকা।

বর্তমানে কালজয়ী অভিনেতা-অভিনেত্রী নেই। আর হবেই-বা কোথা থেকে? কালজয়ী সব নির্মাতারা হারিয়ে গেছেন। তাই কালজয়ী অভিনেতা/অভিনেত্রী ফিরিয়ে আনতে হলে প্রয়োজন ভালো অভিনেতা/অভিনেত্রী ও নির্মাতা তৈরি করা।

রাসেল আহমেদ

মুগদা, ঢাকা।

আগের দিনের মতো এখন আর চলচ্চিত্র নেই। নেই কালজয়ী অভিনেতা/অভিনেত্রী। তৈরি হচ্ছে না ভালো কাহিনীনির্ভর ছবি; যা মনে রাখার মতো। ভালো প্রযোজক/পরিবেশ/ পরিচালকসহ ছবির কথাগুলো এখন তেমন দর্শক-শ্রোতাদের হূদয় টানে না।

চয়ন

কুতুবখালী, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

এক সময় সিনেমা দেখলে চোখে পানি আসতো। নায়ক-নায়িকার কী যে অভিনয়, বারবার ইচ্ছে করতো সিনেমাটা দেখার। আর এখনকার সিনেমা দেখলে সেই আবেদন আর পাওয়া যায় না। নায়ক-নায়িকাদের অভিনয়ের সেই কারিশমা নেই বললেই চলে। কালজয়ী হবে কী করে? অভিনয় যে আর্ট, একটা শিল্প এখন সেদিকে কারো নজর নেই বলেই এ অবস্থা।

হাফিজুর রহমান

ভৈরব বাজার, কিশোরগঞ্জ।

এখনকার সময়ে কালজয়ী অভিনেতা/অভিনেত্রী তৈরি হচ্ছে না। এতে করে চলচ্চিত্রে চলছে নানা সংকট। অন্যদিকে অনেক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়া এটাও চলচ্চিত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

আলমগীর

এনায়েতগঞ্জ লেন, পিলখানা, ঢাকা।

এখন আর তৈরি হচ্ছে না কালজয়ী অভিনেতা-অভিনেত্রী। এর অনেক রকম কারণের মধ্যে প্রশিক্ষণ, চর্চা, ভালো মানের কাহিনি, প্রযোজক/পরিচালকের অভাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সুতরাং এর থেকে ফিরে আসতে হলে গোটা চলচ্চিত্র অঙ্গনকে ঢেলে সাজাতে হবে।

ফারুক আলম

মালিবাগ, ঢাকা।