‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি’র হল বন্ধের ঘোষণা

চলচ্চিত্র শিল্পী ও কলাকুশলীদের দ্বিমত!

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ২১:১৮

দেশের হলের সংখ্যা কমছে প্রতিনিয়ত। প্রায় রাজধানী ও এর বাইরে থেকে খবর আসছে বন্ধ হচ্ছে হল। গত কয়েবছরে এর সংখ্যাটা বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে। যার অন্যতম কারণ দেশের সিনেমার সংখ্যা কমা ও মানসম্মত সিনেমা না হওয়ায় দর্শক ভিড়ছে না হলগুলোতে। বিষয়টি নিয়ে এবার নড়েচড়ে বসছে হল মালিকরা। সম্প্রতি হল বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি’। সম্মেলনে তারা আন্দোলনে যাওয়া ও ১২ এপ্রিল থেকে হল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।  

সম্মেলনে বিদেশি ছবি আমদানির সহজ নীতিমালা ও দেশীয় ছবি নির্মাণ বাড়াতে হবে বলে সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়। সাফটা চুক্তিতে সিনেমা আমদানির নীতিমালা সহজ করতে হবে। এমনকি হলিউড ছবির পাশাপাশি বলিউডের হিন্দি ও উপমহাদেশের অন্যান্য দেশের সিনেমা মুক্তির প্রথমদিনই দেশের হলগুলোতে মুক্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে।

সংগঠনেরর সভাপতি ও মধুমিতা মুভিজের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সিনেমার কারণে হলে সঙ্কটময় সময়টা আরো দীর্ঘ হচ্ছে। দেশে সিনেমা কমার কারণে হল মালিকরা ব্যবসার মুখ দেখছে না। আমরা হল মালিকরা হলগুলো সচল রাখতে সরকারের সুদৃষ্টি খুব প্রয়োজন। সিনেমা নির্মাণ বাড়ানোর উদ্যোগ চাই আমরা। পাশাপাশি বিদেশি ছবি আমদানি করতে সহজ প্রক্রিয়া চাই। আমাদের এই দাবিগুলো না মানা হলে ১২ এপ্রিল থেকে দেশের সব হল বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

হল বন্ধ ও দেশের হলে বিদেশি সিনেমা প্রদর্শনের এই দাবিতে একমত নয় ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্টরা। হলে বিদেশি সিনেমা প্রদর্শন নিয়ে কয়েকবছর আগে আন্দোলন করেছিল এফডিসির সংগঠনগুলো। আবারো এমন আলোচনায় একমত নন তারা।

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে নিয়ে যেতে ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি হল মালিকদের একটা সামঞ্জস্যতা থাকা প্রয়োজন। প্রদর্শক সমিতি তাদের দাবির জন্য হল বন্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জেনেছি। আমরাও দাবি করেছিলাম পরিচালকদের ন্যায্য টাকা, মুনাফা ঠিকমতো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। তখন বিষয়টি নিয়ে কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।’

চলচ্চিত্রের এই সঙ্কটময় সময়ে সিনেমা হল বন্ধের এ আন্দোলন চলচ্চিত্রের অবস্থান কোনদিকে নিয়ে যাবে তা এখন দেখার অপেক্ষা।

দেশে সিনেমা কমার কারণে হল মালিকরা ব্যবসার মুখ দেখছে না। আমরা হল মালিকরা হলগুলো সচল রাখতে সরকারের সুদৃষ্টি খুব প্রয়োজন। সিনেমা নির্মাণ বাড়ানোর উদ্যোগ চাই আমরা। পাশাপাশি বিদেশি ছবি আমদানি করতে সহজ প্রক্রিয়া চাই। আমাদের এই দাবিগুলো না মানা হলে ১২ এপ্রিল থেকে দেশের সব হল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ

সভাপতি

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি

 

সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে নিয়ে যেতে ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি হল মালিকদের একটা সামঞ্জস্যতা থাকা প্রয়োজন। প্রদর্শক সমিতি তাদের দাবির জন্য হল বন্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জেনেছি। আমরাও দাবি করেছিলাম পরিচালকদের ন্যায্য টাকা, মুনাফা ঠিকমতো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। তখন বিষয়টি নিয়ে কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

 

মুশফিকুর রহমান গুলজার

সভাপতি

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি